Sylhet Today 24 PRINT

রায় শুনার পরই চুপ দুই মন্ত্রী

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২৮ মার্চ, ২০১৬

আপিল বিভাগ নিয়ে অবমাননাকর নানা মন্তব্য করে দণ্ডপ্রাপ্ত দুই মন্ত্রী কোনও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত না করেই আদালত চত্বর ছেড়ে যান। অপেক্ষমাণ গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন কেবল খাদ্যমন্ত্রীর আইনজীবী বাসেত মজুমদার। আরেক আইনজীবী রফিক উল হকও কোনও মন্তব্য করেননি। সকালে দুই মন্ত্রী আপিল বিভাগে হাজির হওয়ার সময় অপ্রস্তুত হাসি নিয়ে আদালত কক্ষে প্রবেশ করেন।

আদালত আদেশ ঘোষণার পর তারা দু’জনেই বেরিয়ে যান এবং পরে তাদের আইনজীবী বাসেত মজুমদারের কক্ষে গেলেও গণমাধ্যমের সামনে কোনও কথা বলতে চাননি।

এর আগে আদালত অবমাননার অভিযোগে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন আপিল বিভাগ। আদালত নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার নোটিশের ব্যাখ্যা খারিজ করে দিয়ে আগামী ৭ দিনের মধ্যে জরিমানার এ অর্থ জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরেপ্রেক্ষিতে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান মন্ত্রীদ্বয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার নতুন করে ব্যাখ্যা দিয়ে আবেদন জমা দেন খাদ্যমন্ত্রী যেখানে তিনি আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করছেন এই বলে যে, ভবিষ্যতে তিনি আর এ ধরনের আদালত অবমাননাকর বক্তব্য দেবেন না এবং আদালত যে আদেশ দেবেন তা মাথা পেতে নেবেন। নিজেদের ব্যাখ্যা হাজির করে দুই মন্ত্রীই নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছিলেন। কিন্তু পাননি।

রায়ের আগে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা উচ্চ আদালতের বিচারকরা বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করেছি। প্রকাশিত প্রতিবেদনে (দুই মন্ত্রী যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছিলেন) অনেকের নাম এসেছে। সবার নামে আমরা প্রোসিডিংস ড্র করিনি। প্রকৃতপক্ষে কনটেম্পট নিয়ে আমরা বাড়াবাড়ি করতে চাইনি।’

আদালত আরও বলেন, ‘দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কনটেম্পট প্রোসিডিংস ড্র করা হয়েছে একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য।’

কী বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছেন আদালত—আদেশের পর সে বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘আদালতে মর্যাদা কোনওভাবেই ক্ষুণ্ন করা উচিৎ নয় এ বিষয়টি যাতে দুই মন্ত্রীর সাজার মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ বুঝতে পারে সেই বার্তাই আপিল বিভাগ দিতে চেয়েছেন।’

খাদ্যমন্ত্রীর আইনজীবী বাসেত মজুমদার বলেন, আমরা আদেশের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পাওয়ার পর রিভিউয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো। এখনই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না।

গত ৫ মার্চ একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আলোচনা সভায় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে বাদ দিয়ে মীর কাসেমের মামলার আপিল শুনানি পুনরায় করার দাবি জানান খাদ্যমন্ত্রী। ওই একই অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীও ছিলেন এবং তিনিও মন্তব্য করেছিলেন এ বিষয়ে। এ বক্তব্য মিডিয়ায় প্রকাশের পর গত ৮ মার্চ খাদ্যমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীকে তলব করেন পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে নোটিশ জারি করেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.