তোফাজ্জেল অভি, চট্টগ্রাম থেকে | ৩০ মার্চ, ২০১৬
এক বছর আগে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের চাপাতির কোপে নিহত হওয়া ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্ট ওয়াশিকুর রহমান বাবুকে স্মরণ করা হয়েছে চট্টগ্রামে। সেই সাথে বাবুর খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রামের ব্লগার, এক্টিভিষ্ট ও শুভানুধ্যায়ীরা।
বুধবার (৩০ মার্চ) চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মোমবাতি জ্বালিয়ে আলোক প্রজ্বলনের মাধ্যমে ওয়াশিকুর রহমান বাবুকে স্মরণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত সকলে এক মিনিট নিরবে দাঁড়িয়ে থেকে লেখালেখির কারণে খুন হওয়া তরুণ বাবুর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে 'ওয়াশিকুর বাবু হত্যার বিচার চাই' নামক ইভেন্ট থেকে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বাবুসহ সকল ব্লগার হত্যার বিচার দাবিতে স্লোগান দেয়া হয়। মুক্তচিন্তার পথ প্রসারিত করার দাবিও জানানো হয়।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আয়োজকদের পক্ষে বক্তব্যে রঞ্জন সাহা বলেন, "অভিজিৎ দা (অভিজিৎ রায়) হত্যার এক বছর পেরিয়ে গেছে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি, আজ ৩০ মার্চ ওয়াশিকুর বাবু হত্যার এক বছর পূর্তি। বিচার চাইতে চাইতে আজ ক্লান্ত, বুক ফেটে যায়। কিন্তু নির্বাক হয়েও থাকতে পারিনা। জানি এই আওয়াজ ক্ষমতার গদি পর্যন্ত পৌঁছায় না, তবুও যতক্ষণ দেহে প্রাণ আছে বলে যাবো বাবু হত্যার বিচার চাই, সকল ব্লগার হত্যার বিচার চাই। শেকল পরানো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র চাইনা, প্রকৃত ন্যায়সঙ্গত ধর্মনিরপেক্ষ চাই।"
মুক্তচিন্তার উপর আঘাতকে 'অন্ধকারের বার্তা' উল্লেখ করে উপস্থিত বক্তারা সরকারকে অন্ধকারের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার আহবান জানান।
ব্লগার হিল্লোল দত্ত বলেন, "বাবুর নাম ভুলেছে অনেকেই, বাবুর চেহারা দেখেইনি অনেকে। মৌলবাদের মহোৎসাহ প্রদানের বীজতলায় বাবুর মতন অনেকেরই রক্ত সিঞ্চিত হল। তাই, বিচারের দাবিও মনে হয় অরণ্যে রোদন। তারপরও, কেউ যেহেতু ভোলে না, কেউ যেহেতু আজও ন্যায়ের পতাকা তুলতে ভুলে যায়নি, কেউ যেহেতু বন্ধুকৃত্য করতে চেয়েছে ভালবাসায়, ক্ষোভে আর দ্রোহে, তাই বাবুর জন্যে এই জমায়েত, এই বিচারের দাবি আমাদের প্রাণের। বাংলাদেশের যে-রূপ আমরা দেখতে চাই না, তার বিরুদ্ধে রুখে-দাঁড়াবার। মানুষ ফের জাগবে, এই ভরসায় ডাক দিয়ে যেতে চাই, যাব আমরা বারংবার।"
সমাবেশে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ডও বহন করতে দেখা যায়।
প্রতিবাদী এই স্মরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কবি ও চিত্রশিল্পী জন মোহাম্মদ, সৃজিতা মিতু, সৌরভ চৌধুরী , পিয়াল পিউ, ইসমাইল আজাদ শাকিল, পুস্পিতা গুপ্ত মুন প্রমুখ।