সিলেটটুডে ডেস্ক | ৩১ মার্চ, ২০১৬
কণ্ঠশিল্পী কৃষ্ণকলির গৃহকর্মী জান্নাতুল আক্তার শিল্পীর পরিবারের সঙ্গে আপস চুক্তির পর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। এতে আত্মহত্যার প্রমাণ পাওয়া গেলেও ধর্ষণ বা অন্য কোনোভাবে হত্যার প্রমাণ নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে প্রতিবেদনটি আদালতে জমা দেয়া হয়। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন ওই মামলা তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সুশীর চন্দ্র বর্মন।
শিল্পীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা অপমৃত্যু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুশীল চন্দ্র বর্মন বলেন, শিল্পী আক্তারের ফরেনসিক প্রতিবেদনে আত্মহত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ধর্ষণ বা অন্য কিছুর প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
থানার একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের উপস্থিতিতে কৃষ্ণকলির এক বোন, তার স্বামী ও আরও দুয়েকজনের সঙ্গে পুলিশের বৈঠক হয়। সেখানে তাদের সঙ্গে আপসও হয়। যদিও এ বৈঠকের তথ্যটি শেরেবাংলা নগর থানার ওসি গোপল গণেশ বিশ্বাস ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুশীল চন্দ্র বর্মন নিশ্চিত করেননি।
তবে লিখিত আপসনামা হয়েছে জানিয়ে নিহত শিল্পী আক্তারের বোন রেনু বলেন, ‘ওই কাগজে লিখেছি, আমার বোন মানসিকভাবে সুস্থ ছিল না, একা একা বসে থাকতো।’
তিনি বলেন, ‘শিল্পীকে মেরে ফেলার খবর জানলেও মামলা করব না। মামলা করলে তো বোনকে আর ফিরে পাব না।’
এর আগে বুধবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ফরেনসিক বিভাগের প্রাভষক ডা. প্রদ্বীপ বিশ্বাস ও ডা. সোহেল শিল্পী আক্তারের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন শেরেবাংলা নগর থানা পুরিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
নিহতের বোন জানান, নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা থানার কালদুয়ার গ্রামের শ্রমিক হামিদ ও হালেমা খাতুনের চার সন্তানের মধ্যে শিল্পী তৃতীয়। কৃষ্ণকলির বাসায় এক মাস গৃহকর্মীর কাজ করার আগে মিরপুরের এক বাসায় ছিলেন তিনি।
গত ২৩ মার্চ কৃষ্ণকলির আগারগাঁওয়ে বাসায় সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় শিল্পীকে পাওয়া যায়। কৃষ্ণকলির স্বামী খালেকুর রহমান অর্ক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে অর্কর মুখে আঁচড়ের দাগ দেখে পুলিশ তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। আদালতে নির্দেশে তাকে দুই দিনের রিমান্ডেও নেয়া হয়। কিন্তু তার কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও জানান মামলার তদন্তর কর্মকর্তা।