Sylhet Today 24 PRINT

তনু হত্যার তদন্তে নয়, অগ্রগতি হয়েছে ধামাচাপায়: ইমরান

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০১ এপ্রিল, ২০১৬

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যার বিচার এবং ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার দাবিতে শুক্রবার(১ এপ্রিল) বিকেলে শাহবাগে নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিকাল ৩টা থেকে শুরু হওয়া এই নাগরিক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন তনু হত্যা ও ধর্ষণের প্রতিবাদে আন্দোলনরত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং ছাত্রসংগঠনসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ।

সমাবেশে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, "তনু হত্যাকাণ্ডের আজ ১১ দিন পেরিয়ে গেলো, খুনিদের গ্রেফতারের কোনো খবর নেই। সরকারের প্রায় সবগুলো তদন্ত সংস্থাকে তদন্ত করতে দেখা গেলো, অথচ তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই। ১১দিনে অগ্রগতি বলতে ধামাচাপার অগ্রগতি হয়েছে, নানাভাবে জড়িতদের আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।'"

তিনি বলেন, "প্রতিটি ঘটনার মতো এই ঘটনাতেও কেবল প্রশাসনের বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। তাদের বক্তব্য বিবৃতিতে আশ্বস্ত হবার উপাদান নেই। খুনিদের গ্রেফতারের চেষ্টা বাদ দিয়ে তারা শুধু বক্তব্যই দিয়ে যাচ্ছি"।

তিনি আরো বলেন, "আজকে এই ক্রমাগত খুন, ধর্ষণ, বিচারহীনতার কারণে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, এর জন্য কী বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিলো!  সকলের সমান অধিকারের একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের জন্য আমাদের পূর্বপুরুষেরা যুদ্ধ করেছলেন, রাস্তায় বের হলেই খুন-ধর্ষণের শিকার হওয়ার জন্যে নয়।"

ইমরান এইচ সরকার বলেন, "যে নারীরা ধর্ষিত হচ্ছেন, তারা সমাজের উঁচুস্তরের মানুষ নয়। সেজন্যই তারা ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না, তাদের জন্য ক্ষমতাবানরা কথা বলছেন না। কোনো বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি,  কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক-সমিতি এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করেননি, প্রতিবাদ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা, সাধারণ মানুষেরা। সাধারণ মানুষের উপর অন্যায় হলে সাধারণ মানুষকেই রাজপথে সোচ্চার হতে হবে, অন্য কেউ আপনার অধিকার আদায় করে দেবে না।"

"প্রশাসনের সকল মহলের ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টায় পরিষ্কার যে, ধর্ষকরা শক্তিশালী কেউ। তনুর পরিবারকেও কথা বলতে বাধা দেয়া হচ্ছে, হেনস্থা করা হচ্ছে। আজকে যারা ভাবমূর্তির কথা ভাবছেন, তাদের উচিত অপরাধীকে দ্রুত বের করে বিচার করা, তাহলেই ভাবমূর্তি রক্ষিত হবে। অপরাধীর উপযুক্ত বিচার করলেই ভাবমূর্তি বজায় থাকে"।

তিনি বলেন, "বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, 'বিশ্ব দুই ভাগে বিভক্ত, শোষক আর শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে।'আজ সরকারকে পরিষ্কার করতে হবে, তারা কার পক্ষে"।

তিনি বলেন, "জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল অন্যায়ের দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে। আমরা দেশব্যাপী চারদফা দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু করেছি। সারা দেশ থেকে এককোটি স্বাক্ষর নিয়ে চার দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য আমরা মহান সংসদে জমা দেবো। এমনিতে প্রশাসনের ঘুম ভাঙেনা, জনতার রায় পৌঁছে দিয়ে আমরা তাদের ঘুম ভাঙাবার চেষ্টা করবো।''


গণজাগরণ মঞ্চ আয়োজিত এই নাগরিক সমাবেশ সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সঞ্জীবন এস. চক্রবর্তী। বক্তব্য রাখেন সঙ্গীতশিল্পী মাহমুদুজ্জামান বাবু, ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. মুস্তাক হোসেন, ভাস্কর রাসা, শিশু সংগঠক তাহমীন সুলতানা স্বাতী, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জিলানী শুভ, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রাকিব, শ্রমিকনেত্রী জলি তালুকদার, নারী নেত্রী অনিন্দ্যা সাহা, শ্রমিকনেতা রাজেকুজ্জামান রতন, জাসদ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জ্যোতিবিকাশ শিকদার,  সামাজিক সংগঠন পরিবর্তন এর শওকত রাব্বী ফরহাদ, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী তানজিল হাসনাত, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট এর সাধারণ সম্পাদক নাসিরউদ্দিন প্রিন্স, ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মো. রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ এর সাধারণ সম্পাদক মো. ইমতিয়াজ হোসেন, চা-শ্রমিক আন্দোলনের নেতা মোহন রবি দাস প্রমুখ।

বক্তারা খুন-ধর্ষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়াবার আহ্বান জানান। তনু হত্যাকাণ্ডের ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও খুনি-ধর্ষকদের কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শাহবাগ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ঘুরে শাহবাগে ফিরে আসলে চারদফা দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু হয়। দাবিসমূহ হচ্ছেঃ ১) অবিলম্বে তনুর ধর্ষক ও হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ২) হাইকোর্ট কর্তৃক প্রণীত “যৌন নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালা” বাস্তবায়ন করতে হবে। ৩) ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে আইন প্রণয়ন করতে হবে। ৪) সকল নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.