নিউজ ডেস্ক | ০১ মার্চ, ২০১৫
বিজ্ঞান ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী লেখক এবং মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এফবিআইকে যুক্ত করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ সরকার। হত্যাকাণ্ডের পর তিন দিনেও বাংলাদেশের তদন্তকারীরা কোনো কূল-কিনারা খুঁজে না পাওয়ার মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী রোববার এই সিদ্ধান্ত বিদেশি কূটনীতিকদের জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের পরপরই ওয়াশিংটনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নিয়মিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তদন্তে আগ্রহর কথা জানান। এর পাশাপাশি অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রকৌশলী অভিজিৎ একুশের বইমেলায় তার বই প্রকাশ উপলক্ষে বাংলাদেশে এসেছিলেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে বইমেলা থেকে বের হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
লেখালেখির জন্য তাকে হুমকি দিয়ে আসছিল বাংলাদেশের জঙ্গিবাদীরা। চলমান পরিস্থিতি নিয়ে রোববার যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের মিশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মাহমুদ আলী, সেখানেই অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি আসে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের চিহ্নিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কূটনীতিকদের জানানো হয়েছে।
এফবিআইয়ের তদন্তের বিষয়টি বাংলাদেশে নতুন নয়। এর আগে ২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলার তদন্তে বাংলাদেশে এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের কর্মকর্তারা। তবে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে ওই তদন্তে তারা সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
ব্লগসাইট মুক্তমনার প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অজয় রায়ের ছেলে। সেদিন হামলায় তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাও আহত হয়েছেন। আঙুল হারিয়ে তিনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ধরন ও আগের হুমকি বিবেচনায় অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের জন্য জঙ্গিদের সন্দেহ করা হলেও তিন দিনেও কাউকে চিহ্নিত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের পর তার বাবা শিক্ষাবিদ অজয় রায়কে টেলিফোনে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। উত্তরবঙ্গের একটি জেলা খেকে ফোনটি করার প্রমাণ মিলেছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট আরেক কর্মকর্তা বলেন, টুইটারে এই হত্যাকাণ্ডের দায়িত্ব স্বীকার করে যে বক্তব্য এসেছে, সে বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে। অভিজিৎ রায়ের ওপর হামলার পর বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে ‘আনসার বাংলা সেভেন’ নামে একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে টুইট করে এ হত্যাকাণ্ডকে ‘বিজয়’ হিসেবে দাবি করা হয়।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি অভিজিৎ দেশের আসার পর এবং ঘটনার আগে কার কার সঙ্গে কথা বলেছেন। সেই টেলিফোন নম্বরগুলো কার কার ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে র্যা বের এই কর্মকর্তা জানান। একুশের বইমেলার জন্য বসানো সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখছে গোয়েন্দা পুলিশ।
অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শাহবাগ থানার পুলিশ শুরু করলেও পরে তা গোয়ে্ন্দা পুলিশেকে (ডিবি) দেওয়া হয়।
রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর অভিজিতের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজে দান করেন তার বাবা অধ্যাপক অজয় রায়।