সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৯ এপ্রিল, ২০১৬
সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের সক্রিয় কর্মী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজিমুদ্দিন সামাদ হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহতের ঘনিষ্ট বন্ধুসহ বেশ কয়েকজনকে নজরদারিতে রেখেছে পুলিশ।
এছাড়া এ হত্যার ঘটনা তদন্তে নাজিমুদ্দিনের আগের কর্মকাণ্ডকেও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্লগে লেখালেখি নাকি নিজ গ্রামের কোনো দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সেটা নিশ্চিত হতে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। তবে তিনদিন অতিবাহিত হলেও জড়িত কাউকে সনাক্ত কিংবা গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নাজিমুদ্দিন হত্যার রহস্য উন্মোচনে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত নেপথ্যের কাউকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সূত্রাপুর থানার ওসি (তদন্ত) সমীর চন্দ্র সূত্রধর গণমাধ্যমে বলেন, দু-তিনজনকে নজরে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে তার বন্ধুও রয়েছে। পাশাপাশি এর সঙ্গে কোনো জঙ্গি সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা সেই বিষয়টিও মাথায় রেখে তদন্ত চলছে।
তবে এ ঘটনাস্থলের আশপাশে কোন সিটি ক্যামেরা না থাকায় তদন্তে সমস্যা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
হত্যার বিষয়ে নাজিমুদ্দিনের ফুফাতো ভাই সাদেক আজাদ বলেন, আমরা শতভাগ নিশ্চিত যে লেখালেখির কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার হত্যার সঙ্গে অন্যান্য ব্লগার হত্যার ধরনের মিল রয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে কেন মামলা করা হলো না সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিবারের বেশির ভাগ সদস্যই দেশের বাইরে থাকেন। বিদেশ থেকে তাদের পক্ষে পরিচালনা সম্ভব নয় বলেই পরিবার মামলা করেননি।
এদিকে, শুক্রবার (০৮ এপ্রিল) দুপুরে সূত্রাপুরের একরামপুর মোড়ের ঋশিকেশ দাশ রোডে গিয়ে দেখা গেল, যেখানে নাজিমুদ্দিনকে কুপিয়ে মারা হয়েছিল সেই দোকানের দু’টি সিঁড়িতে এখনও ছোপ ছোপ রক্তের দাগ রয়েছে। রক্তের দাগই বলে দিচ্ছে এখানেই খুন করা হয়েছিল ব্লগার নাজিমুদ্দিনকে।
তবে এ ঘটনার দিন আশপাশের দোকান ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মচারীদের মাঝে কিছুটা ভীতি সন্ত্রস্ত হলে এখন তা অনেকটাই স্বাভাবিক। তবে যে টেইলার্সের সামনে খুনিরা তাকে কুপিয়ে ফেলে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায় সেই টেইলার্সটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনার পর নিহতের পরিবারের কেউই মামলা করতে অপারগতা প্রকাশ করলে পরে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে।
নাজিমুদ্দিনের বন্ধু সোহেলের বরাত দিয়ে ওসি তপন চন্দ্র সাহা বলেন, তার বন্ধু ও সে পাশাপাশি এক সঙ্গে হেটে আসছিল ঋশিদাশ রোডের একরামপুর মোড়ের দিকে। এসময় পেছন দিক থেকে প্রথম কোপ দিলে রাস্তায় পড়ে যায় নাজিমুদ্দিন। পরে চার পাঁচজন মিলে আবারও কয়েকটা কোপ দেয় এবং তাদের মধ্য থেকে একজন ফাঁকা গুলি করে পরে পালিয়ে যায়।
সে অত্যন্ত ভীত সন্ত্রস্ত। এ ঘটনার পর থেকে সে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছে এমনকি পুলিশের সামনে এসেও কথা বলতে চাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তপন চন্দ্র সাহা বলেন, এ ঘটনায় অজ্ঞাত নামা চার পাঁচজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। তবে এখনও পুলিশ কোন ক্লু পায়নি। ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পুলিশের পাশাপাশি মামলাটি ডিবিও তদন্ত করছে।
একটা চাঞ্চল্যকর ঘটনায় যতোগুলো বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত হয় তার সবটাকেই সামনে রেখে তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা নাজিমুদ্দিনের বন্ধু সোহেলের বরাত দিয়ে অনেক পত্র-পত্রিকা প্রকাশ করেছে, ঘটনার সময় ঘাতকরা নাজিমকে হত্যা শেষে ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিয়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু ওই সময় ঘাতকরা এমন কোনো ধরনের স্লোগানই দেননি বলেও জানান সূত্রাপুর থানার এ কর্মকর্তা।