Sylhet Today 24 PRINT

নাজিমের বান্ধবীকে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১২ এপ্রিল, ২০১৬

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নাজিমুদ্দিন সামাদ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন,অনেক আগে থেকেই ওই ছাত্র উগ্রবাদিদের টার্গেটে ছিলেন। ফেসবুকে তার কিছু বির্তকিত লেখালেখির জন্য উগ্রপন্থী গোষ্ঠী তাকে অনুসরণ করে আসছিল।

নাজিমের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাও বলছেন, নাজিম ফেসবুকে নিয়মিত সক্রিয় থাকার কথা জানলেও তার লেখা সর্ম্পকে ধারণা ছিল না। স্বজন,ঘনিষ্ঠ বন্ধু,এমনকি নিজের বান্ধবীর কাছেও নিজে হুমিকিতে থাকার বিষয়টি জানান নি। কখনও পুলিশের কাছেও অভিযোগ করেন নি।

পুলিশ ও গোয়েন্দারা নাজিমের এক বান্ধবী, গ্রামের ও ঢাকার কয়েক বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পেয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে তার বান্ধবীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

গত বুধবার রাতে ক্লাশ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার পথে সূত্রাপুরের ইকরামপুর মোড়ে নাজিমকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে।

ঘটনার ৫ দিন পরও পুলিশ ওই হত্যাকাণ্ডে কাউকে গ্রেফতার করতে না পারলেও ধারণা করছে, ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠি আনাসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) কোনো সেলের হাতে ওই ছাত্র খুন হন।  তিনি জবির আইন বিভাগে মাস্টার্স অব ল’ (এলএলএম) সান্ধ্যকালীন বিভাগের ছাত্র ছিলেন।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, হত্যার ধরন থেকে তারা এখন পর্যন্তও ধারণা করছেন,এবিটির কোনো গ্রুপের হাতে নাজিম খুন হতে পারেন। ছায়াতদন্ত করতে গিয়ে বেশকিছু তথ্যও মিলেছে। ওই গোষ্ঠিটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে লেখেন বা বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয়ে সমালোচনা করে অনলাইনে লেখেন-এমন অনেকে তারা নিরাপত্তা দিয়েছেন। তবে নাজিম সেই তালিকায় ছিল না। সিলেট থেকে ঢাকায় এসে বসবাস শুরু করলেও তিনি যে হুমকিতে রয়েছেন এমন কিছু জানান নি। সবকিছু বিবেচনা করে মনে হচ্ছে সিলেট থেকেই তিনি টার্গেটে ছিলেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, নাজিমের এক বান্ধবী ও কয়েক বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, নাজিম ফেসবুকে নানা বিষয়ে লিখতেন। তবে ধর্মীয় বিষয়ে এতো কট্টর লেখার বিষয়ে লেখার কথা তাদের জানা ছিল না। এজন্য কখনও হুমকি পেয়েছিলেন কিনা তাও তাদের জানা নয়।

নাজিম খুন হওয়ার সময় তার সঙ্গে ছিলেন বন্ধু সোহেল। তারা গেন্ডারিয়ার একটি বাসায় এক সঙ্গেই থাকতেন। তিনি গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, নাজিম যে হুমকিতে ছিল বা তাকে কেউ মারতে পারে সে ধারণা ছিল না। হত্যার দিন তাকে কোপাতে দেখে তিনি চিৎকার দিয়েই বলেছিলেন, তারা (খুনিরা) ভুল করছে। এরপর তাকে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে তাড়া করলে তিনি প্রাণ বাঁচাতে দৌড় দেন।

সিলেট বিয়ানীবাজারে নাজিমের গ্রামে জুবেল নামে এক বন্ধু পুলিশকে জানিয়েছেন, নাজিম সিলেটে গণজাগরণ মঞ্চে সক্রিয় ছিলেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। তবে তাকে যে হত্যা করা হবে তা কেউ ধারণা করতে পারে নি। এ নিয়ে নাজিম কখনও পুলিশের সহায়তা বা থানায়ও জিডি করেনি।

নাজিম হত্যার ঘটনায় দায়ের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সূত্রাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বলেন,নাজিমের বেশ কয়েক বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে তার সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়েছে। তিনি কাউকে কিছু খোলাসা করে বলতেন না। খুন হওয়ার দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে তার ফেসবুকেও তেমন বির্তকিত কিছু লেখাও দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, তবে এর আগে নাজিম ধর্মীয় বেশ কিছু বিষয়ে বির্তকিত লেখা লিখতেন বলে দেখা গেছে। এসব কারণ মাথায় নিয়েই তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.