সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৯ এপ্রিল, ২০১৬
ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধচারী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাজিমুদ্দিন সামাদকে হত্যার তদন্তে বলার মতো কোনো অগ্রগতি না হলেও জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এছাড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে কয়েকজনকে ‘সন্দেহের আওতায়’ রাখার কথা জানিয়েছেন মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশের গণমাধ্যম কার্যালয়ে এক অনানুষ্ঠানিক ব্রিফিং শেষে তিনি বলেন, “আমি মনে করি, ঘটনাটি পরিকল্পিত। সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে এ জাতীয় ঘটনা ঘটে, তাই সংগঠনের প্রধান থেকে সবারই দায়-দায়িত্ব চলে আসে। সেভাবেই এ হত্যার তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”
গত ৬ এপ্রিল রাতে গেন্ডারিয়ার বাসায় যাওয়ার পথে পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাত ও গুলিতে নিহত হন সামাদ। সিলেট শাখা বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সামাদ গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ছিলেন।
ফেইসবুকে ধর্মান্ধতা ও সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে সমালোচনামূলক লেখালেখি করা সামাদের মৃত্যুতে দেশ-বিদেশ থেকে নিন্দার পাশাপাশি তার হত্যাকারী চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা ও গণজাগরণ মঞ্চ।
ঘটনার দুদিন পর অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট সামাদকে হত্যাকাণ্ডের দায়িত্ব আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠী স্বীকার করেছে- জঙ্গি হুমকি পর্যবেক্ষণকারী ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’ এমন খবর দিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানায় রয়টার্স।
তাৎক্ষণিকভাবে এই বার্তার সত্যতা যাচাই করা যায়নি জানিয়ে রয়টার্সের খবরে বলা হয়, “ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়েদার (একিউআইএস) বাংলাদেশ শাখা আনসার আল-ইসলাম বলেছে, ব্লগার নাজিমুদ্দিন সামাদ ফেইসবুকে আল্লাহ, নবী মোহাম্মদ ও ইসলামকে অবমামনা করায় ‘প্রতিশোধ’ হিসেবে তাদের সদস্যরা এই হামলা চালিয়েছে।”
তবে ওই কথিত বার্তায় সামাদকে ‘ইসলামবিরোধী ব্লগার’ বলা হলেও তার কোনো ব্লগ খুঁজে পায়নি পুলিশ। তিনি মূলত ফেইসবুকে লিখতেন এবং তাতে ধর্মান্ধতার সমালোচনা করলেও ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো কথা পাওয়া যায়নি বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
সামাদ হত্যার ঘটনায় সূত্রাপুর থানায় পুলিশ একটি মামলা করলেও খুনের রহস্য উদঘাটনে কোনো অগ্রগতি নেই।
হত্যা মামলাটি সূত্রাপুর থানার পুলিশ তদন্ত করলেও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ছায়া তদন্ত করছে বলে জানান কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।
মনিরুল বলেন, “সাত থেকে আটজনকে সন্দেহের আওতায় রাখা হয়েছে; তার বাইরেও তিন-চারজন জড়িত থাকতে পারে। তাদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলেই হত্যার আসল কারণ খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।”