সিলেটটুডে ডেস্ক | ২১ এপ্রিল, ২০১৬
ফরমায়েশি প্রতিবেদন না লেখায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক নেতার মারধরের শিকার হয়েছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি তপন কান্তি রায়।
বুধবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক পিয়াল হাসানের মারধরে তপন কানে গুরুতর জখম হন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে মাস্টার্স পাস করা পিয়াল সকালের খবরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ছিলেন।
অবশ্য ‘গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে’ ছাত্রলীগে পদ নেওয়ায় তাকে সাংবাদিক সমিতি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মারধরের পর একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তপনকে প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় তাকে স্থানান্তর করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
তপন কান্তি বলেন, “কয়েকদিন আগে পিয়াল হাসান আমার মেইলে কয়েকটি প্রতিবেদন পাঠান। কিন্তু আমি তাকে জানাই, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরে ব্যক্তিগত তদবিরের নিউজ ছাপা হয় না। তবুও তিনি আমাকে প্রতিবেদন করার জন্য চাপ দিতে থাকেন।
“আমাকে ফোনে ধমক দিয়েছিলেন। আজ বিকেলে মধুর ক্যান্টিনের সামনে পেয়ে বলেন, ‘বেয়াদব হয়ে গেছিস। ডিপার্টমেন্টের বড় ভাইদের সাথে বেয়াদবি করস’। আমি বলি, ‘কী বেয়াদবি করলাম। আপনার কথায় নিউজ না করলে কি সেটা বেয়াদবি হবে?”
“তর্কের এক পর্যায়ে তিনি বলেন- তোকে কানের নিচে কয়টা দিলে কে বাঁচাবে? তোকে মেরে ফেললে তো কেউ ঠেকাতে পারবে না। এরপরেই আমাকে কিলঘুষি ও থাপ্পড় মারা শুরু করেন।”
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দৈনিক সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রেজা আকাশ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তপনকে মারধর করে পালিয়ে যান ছাত্রলীগ নেতা পিয়াল হাসান।”
‘গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে’ ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক পদ নেওয়ায় রেজা আকাশকেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা পিয়ালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, “নিউজের তদবির নিয়ে নয়, সাংবাদিক সমিতি থেকে বহিষ্কৃত রেজা আকাশের নেতৃত্বে পহেলা বৈশাখে আলাদা পান্তা ইলিশ খাওয়ার আয়োজন নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।
“পহেলা বৈশাখে আমি তপনকে ফোন করেছিলাম, পান্তা-ইলিশের আয়োজন হবে কি-না সেটা জানার জন্য। ও আমার সঙ্গে ওইদিন খারাপ আচরণ করে। আজকে ওই বিষয়ে জানতে চাইলে সে আমার উপর চড়াও হয় এবং মধুর ক্যান্টিনে সবার সামনে গালিগালাজ করে।”
তবে পহেলা বৈশাখে ছাত্রলীগ নেতা পিয়ালের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগ নাকচ করেছেন তপন।
তিনি বলেন, “আমরা সেদিন সমিতির বাইরে আলাদা কোনো আয়োজন না করলেও পিয়াল ভাই ফোন করে আমরা কোথায় পান্তা-ইলিশের আয়োজন করেছি জানতে চান।
“আমরা পান্তা-ইলিশের আয়োজন করিনি বলার পরও তিনি বারবার একই প্রশ্ন করে আমাকে বিরক্ত করেন।”
তপনের ভাষ্য, পান্তা-ইলিশের আয়োজন করেননি জানানোর পরও বারবার একই প্রশ্ন করায় বিরক্ত হয়ে এক পর্যায়ে- ‘ভাই, আপনি কি আমার সাথে মজা নেন না কি’ মন্তব্য করেন তিনি। এই কথার পর পিয়াল ‘আজেবাজে কথা’ বলা শুরু করলে তিনি ফোন কলটি কেটে দিয়েছিলেন।
এর আগে তিনটি ‘ফরমায়েশি নিউজ’ পাঠানোর পর না ছাপানোয় পিয়াল তার উপর ক্ষেপে ছিলেন বলে দাবি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধির।
সে ঘটনা নিয়েই বুধবার মধুর ক্যান্টিনের সামনে পিয়াল তার উপর চড়াও হন বলে জানান তপন।
সমিতির একজন সদস্যকে মারধরের বিচার দাবি করেছেন সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আসিফুর রহমান।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ছাত্রলীগ নেতা সমিতির একজন কার্যনির্বাহী সদস্যকে মারধর করেছে। আমরা ছাত্রলীগের কাছে এ বিষয়ে সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, “ছাত্রলীগের বাইরে পিয়াল একজন সাংবাদিক হয়ে সাংবাদিককে মারধর করেছে। এখানে ছাত্রলীগ কোনোভাবে সংশ্লিষ্ট নয়।
“ছাত্রলীগের ক্ষমতা বা প্রভাব ব্যবহার করে যদি সে এটা করে থাকে কিংবা ছাত্রলীগের আরও কেউ যদি এর সঙ্গে জড়িত থাকে তাহলে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নেব।”
সূত্র: বিডিনিউজ।