সিলটটুডে ডেস্ক | ০২ মে, ২০১৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় ছাত্রলীগ করতেন। সর্বশেষ পৌর নির্বাচনে দলীয় টিকেটে নৌকা প্রতীকে মেয়রও নির্বাচিত হয়েছেন। পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও তিনি। কিন্তু দলের নির্দেশনার ধারে কাছে নেই। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে আঁটঘাট বেঁধেই মাঠে নেমেছেন তিনি।
শুধু তাই নয়, প্রকাশ্যে কোমরে পিস্তল ঝুলিয়ে নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দিয়ে বেড়াচ্ছেন। তার দাপটে তটস্থ গোটা এলাকা।
তিনি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ। তবে মেয়র কালামের পিস্তল নিয়ে ত্রাস সৃষ্টির বিষয়ে প্রশাসন ও দল থেকে দায় এড়ানো বক্তব্য দেয়া হচ্ছে। চতুর্থ ধাপে ৭ মে এখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
স্থানীয়রা জানান, গত শনিবার বিকালে গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের তালতলি মোড়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আলমগীর সরকারের ঘোড়া প্রতীকের নির্বাচনী সভায় যোগ দেন মেয়র আবুল কালাম আজাদ। এ পথসভায় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আলমগীর সরকারের সভাপতিত্বে তিনিই প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এরপর ইউনিয়নের কনোপাড়া, তেলিপুকুর, পলাশি ও গোয়ালকান্দি বাজারে নির্বাচনী পথসভায় তিনি বক্তব্য রাখেন এবং ঘোড়া প্রতীকের ভোট দেয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহবান জানান। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা ও পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ গোয়ালকান্দি বাজারে দলের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী আলমগীর সরকারের আরেকটি নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখেন। এসময় তার কোমরে পিস্তল ঝুলানো অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। এতে সাধারণ ভোটারদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বেপরোয়া মেয়র আবুল কালাম আজাদ। ২০১১ ও ২০১৫ সালের পৌর নির্বাচনে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। দুই দফা মেয়র হওয়াতে তার অপকর্ম এখন লাগামহীন।
অভিযোগ রয়েছে, চরমপন্থী সর্বহারা সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ফখরুদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব। এসময় আবুল কালামের পায়ে গুলি লাগে। এলাকায় তিনি ল্যাংড়া কালাম নামেও পরিচিত। তার দৌরাত্ম্যে খোদ দলীয় এমপি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকও অসহায়। এনামুল এমপি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। কিন্তু তার কোনো নিদের্শনায় মানেন না কালাম মেয়র।
দলীয় নেতারা আরো জানান, ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনে গোয়ালকান্দিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি সম্পাদক ও ইউনিয়নের সহ-সভাপতি আব্দুল সালাম। তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে মাঠে আছেন। কিন্তু দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর সরকার নির্বাচন করছেন। আর পৌর নির্বাচনে কালাম মেয়র নৌকা নিয়ে জয় লাভ করে এখন নৌকার বিরুদ্ধেই পিস্তল নিয়ে প্রচারণায় নেমেছেন।
গোয়ালকান্দি ইউপিতে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী আব্দুস সালাম অভিযোগ করে বলেন, কালাম মেয়র প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন, আলমগীরের পক্ষে ভোটে না নামলে তাহেরপুর বাজারে কাউকে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে দেয়া হবে না। তার ইউনিয়নের বাসিন্দাদের অন্তত দুইশো তাহেরপুরে ব্যবসা করেন। কিন্তু কালামের পিস্তুলের ভয়ে অনেকেই এখন দোকানছাড়া।
এসব বিষয়ে তাহেরপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ যুগান্তরকে বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষা টাকার বিনিময়ে আবদুস সালামকে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়েছে। আমার অবস্থান নৌকার বিরুদ্ধে নয়। জেএমবি ও জামায়াত-বিএনপির বিপক্ষে আমি মাঠে নেমেছি। যেহেতু আমার স্ত্রীর ওপর হামলা হয়েছে। একারণে নিজের নিরাপত্তার জন্য আমি লাইসেন্স করা পিস্তল সব সময়ই রাখি।
তবে এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে নেতাকর্মীদের তার পক্ষেই কাজ করতে হবে। বাইরে গেলেই কঠোর ব্যবস্থা। মেয়র কালামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাগমারা উপজেলা কমিটিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টু দায়িত্ব এড়িয়ে বলেন, তাহেরপুর পৌরসভা প্রথমশ্রেণীর পৌরসভা হওয়ায় থানা কমিটির মর্যাদার সমান। কাজেই উপজেলা কমিটি নয়, জেলা কমিটিই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
এ ব্যাপারে রাজশাহীর পুলিশ সুপার নিশারুল আরিফ বলেন, কেউ লাইসেন্স করা পিস্তল নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন না। এটি নির্বচিনী আচরণবিধি ভঙ্গের মধ্যে পড়ে।
রাজশাহীর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সুভাস চন্দ্র সরকার বলেন, কোনোভাবেই লাইসেন্স করা পিস্তল নিয়ে কেউই নির্বাচনী মাঠে থাকতে পারবেন না। নির্বাচন চলাকালে জেলা প্রশাসন লাইসেন্স করা সব অস্ত্রই জমা নিয়ে নেয়ার কথা।
তবে জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দীন বলেন, এধরনের কোনো নির্দেশনা আমাদের কাছে আসেনি।
খবর: যুগান্তর।