Sylhet Today 24 PRINT

তনু হত্যায় দুই সেনাসহ তিন জন জড়িত, দাবি মায়ের

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১০ মে, ২০১৬

সেনানিবাসের একটি অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল তনুকে। কিন্তু সেখানে গান না গেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে সিলেট ভ্রমণে গিয়েছিলেন তিনি। সেই আক্রোশেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেছেন  নিহত সোহাগী জাহান তনুর মা আনোয়ারা বেগম।

এসময় এই হত্যাকাণ্ডে দুই সেনাসদস্যসহ তিনজন জড়িত বলে দাবি করেছেন তিনি। এসময় তনুর বাবা ইয়ার হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিআইডি কার্যালয়ে সপ্তমবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের ডাকা হলে পথে সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন তনুর মা আনোয়ারা বেগম।

তাদের দাবি অনুযায়ী অভিযুক্তরা হচ্ছেন কুমিল্লা সেনানিবাসের সার্জেন্ট জাহিদ, তার স্ত্রী ও সিপাহী জাহিদ।

তনুর বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনম্যান্ট বোর্ডের কর্মচারী মো. ইয়ার হোসেন ও মা আনোয়ারা বেগম জোর দিয়ে বলেন, সার্জেন্ট জাহিদ ও সিপাহী জাহিদকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই তনু হত্যাকাণ্ডের সব তথ্য বেরিয়ে আসবে।

তারা বলেন, বারবার জিজ্ঞাসাবাদে আমরা এখন ক্লান্ত। যাদের বাসায় পড়াতে গিয়ে তনু খুন হয়েছে তাদের কাউকেই ওইভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না। তাদের বাসার শিশুদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেও অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে।

তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, সেনাবাহিনীর স্টাডি ইউনিটের একটি অনুষ্ঠানে গান গাইতে তনুকে অনুরোধ করা হয়েছিল। ওইখানে সে গান না গেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে সিলেটে ভ্রমণে চলে যায়। পরে তারা কুমিল্লা থেকে খোকন ও শান্তা নামে দুই শিল্পীসহ একদল শিল্পীকে টাকার বিনিময়ে এনে অনুষ্ঠানে গান করায়। এ থেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে তনুকে হত্যা করা হয়।

তিনি বলেন, এর বাইরে যদি আর কোনও রহস্য থাকে তাহলে তাও খুঁজে বের করা দরকার। তবে এ খুনের সঙ্গে সার্জেন্ট জাহিদ ও তার স্ত্রী এবং সিপাহী জাহিদ জড়িত বলে দাবি করেন তিনি।

তনুর মা বলেন, অনেক আক্রোশের কারণে তনুকে হত্যা করা হয়েছে। তার গোটা শরীরে মারের আঘাতের চিহ্ন ছিল দাবি করে তিনি বলেন, গান না গাওয়ার আক্রোশেই তাকে হত্যা করা হয়। তনুর চুল খুব লম্বা ছিল। ওই চুলও কেটে দেয় খুনিরা। দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্টের কোনও খবর নেই দেড় মাসেও। এগুলো কিসের আলামত তিনি তা জাতির কাছে প্রশ্ন রাখেন।

তিনি বলেন, সেনানিবাসের নিরাপত্তা বেষ্টনির ভেতর সেনা সদস্য ছাড়া এমন হত্যাকাণ্ড আর কেউ ঘটাতে পারে না।


গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরেই বাসা থেকে ২০০ গজ দূরে টিউশন শেষে ফেরার পথে নিখোঁজ হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু। রাতেই অলিপুরের একটি ঝোঁপের মধ্যে তনুর লাশ পাওয়া যায়; পাশেই ছিল তার জুতা, ছেঁড়া চুল, ছেঁড়া ওড়না।

তাকে ধর্ষনের পর হত্যার অভিযোগ ওঠে। তনু হত্যার বিচার দাবিতে ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠে সারা দেশ।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.