নিউজ ডেস্ক | ০৮ মার্চ, ২০১৫
হত্যাকাণ্ডের দুই বছর এক মাস পর ব্লগার ‘থাবা বাবা’ ওরফে আহমেদ রাজীব হায়দারের হত্যা মামলার অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করেছেন আদালত। আগামি ১৮ মার্চ ধার্যকৃত এ দিন।
ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. রুহুল আমিন রোববার অভিযোগ গঠনের শুনানি নিয়ে আদেশের জন্য এ দিন ঠিক করে দেন।
২০১৩ সালে শাহবাগ আন্দোলন শুরুর দশম দিনে ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পল্লবীতে নিজের বাসার সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রাজীবকে। ধর্মীয় উগ্রবাদীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্ত শেষে গত বছরের ২৮ জানুয়ারি আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক নিবারণ চন্দ্র বর্মণ। অভিযোগপত্রে রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষী ৫৫ জন। আসামিদের মধ্যে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি মো. জসীমউদ্দিন রাহমানী ছাড়া বাকিরা নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তাদের মধ্যে রেদোয়ানুল আজাদ রানা ছাড়া সবাই গ্রেপ্তার আছেন।
এরা হলেন- সাদমান ইয়াছির মাহমুদ, ফয়সাল বিন নাঈম দীপ, এহসান রেজা রুম্মান, মাকসুদুল হাসান অনিক, নাঈম ইরাদ ও নাফিজ ইমতিয়াজ। তাদের সবাইকে এদিন শুনানিতে হাজির করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে সাদমান ছাড়া বাকিরা ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মুফতি মো. জসীমউদ্দিন রাহমানী ঢাকার মোহাম্মদপুরে দুটি মসজিদে জুমার খুতবায় ধর্মের বিরুদ্ধে লেখে এমন ব্লগারদের হত্যার ফতোয়া দিতেন। অন্য আসামিরা সবাই নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং তারা ওই খুতবা শুনতেন। এভাবে তাদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি হয়।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, জসীমউদ্দিনের লেখা বই পড়ে এবং সরাসরি তার বয়ান ও খুতবা শুনে ‘নাস্তিক ব্লগার’দের খুন করতে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত হন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় ব্লগার রাজীব খুন হন। রাহমানিকে এই হত্যায় উৎসাহদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুফতি জসীমের উসকানিমূলক খুতবার বিষয়টি ছাত্রদের জবানবন্দিতেও উঠে এসেছে। ২০১৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর জসীমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বাকিদের গ্রেপ্তার করা হয় তার আগে মার্চ থেকে অগাস্টের মধ্যে।