Sylhet Today 24 PRINT

হিন্দুধর্মে ফেল করা বরিশালের সেই ১১৪১ জন পরীক্ষার্থী পাস

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১৪ মে, ২০১৬

অবশেষে ভুল সংশোধন করল বরিশাল শিক্ষা বোর্ড। হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষায় অস্বাভাবিক ফল বিপর্যয়ের ঘটনায় দেখা গেল শিক্ষার্থী নয় ভুল করেছেন পরীক্ষক। আর তাই বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের এসএসসি পরীক্ষা-২০১৬ এর হিন্দুধর্ম (১১২) বিষয়ের সংশোধিত ফলাফলে এক হাজার ১৪১ জন ফেল করা শিক্ষার্থী পাশ করেছে। যদিও অস্বাভাবিক ফল মানতে না পেরে সর্বজিত নামক এক ছেলে আত্মহত্যা করে।

পরীক্ষকদের ভুলের কারণেই বুধবার প্রকাশিত ফলে দুই সহস্রাধিক পরীক্ষার্থীকে ফেল দেখানো হয়েছিল বলে বোর্ডের একটি সূত্র নিশ্চিত করে।

এবারের এসএসসির ফল প্রকাশের পরই  বরিশাল নগরীর উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সর্বজিত ঘোষ হৃদয় নামে এক পরীক্ষার্থী সব বিষয়ে পাশ করেও বুধবার ধর্ম বিষয়ে ফেল দেখে এক ঘণ্টার মাথায় বহুতল ভবন থেকে লাফিয়ে দিয়ে আত্মহত্যা করে। এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে ফেল করা পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে দ্রুত আবেদন গ্রহণ করে ফল পুনঃনিরক্ষণ করা হয়।

শনিবার বিকেল ৫টার দিকে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সংশোধিত এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।

শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক জানান, ‘হিন্দুধর্ম ও নৈতিকশিক্ষা’ বিষয়ে এমসিকিউ ‘খ’ সেটের পরীক্ষার্থীদের ফলাফল বিপর্যয় হয়েছিল। এ সেটের অনেক পরীক্ষার্থী প্রথম পর্যায়ে ফলাফল প্রকাশের সময়ে পরীক্ষায় পাশ করতে পারেনি। তার মধ্যে খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থীরা ছিল।’

কারণ হচ্ছে, প্রধান পরীক্ষক ‘খ’ সেটের যে উত্তরমালা তৈরি করে দিয়েছিলেন তা ‘গ’ সেটের। ফলে ‘খ’ সেটে যারা পরীক্ষা দিয়েছে তাদের উত্তরের সঙ্গে প্রধান পরীক্ষকের ভুল উত্তরমালার সমন্বয় হয়নি। এক্ষেত্রে প্রযুক্তি নিরুপায় ছিল।

অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক আরো জানান, প্রধান পরীক্ষকের অমনোযোগ ও অদক্ষতার কারণে এটি হয়েছে। প্রধান পরীক্ষক দুইজন মাস্টার ট্রেনার। আমরা ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে নতুন পরীক্ষক নিয়োগ দিয়ে নতুন উত্তরমালা তৈরি করে সকল পরীক্ষার্থী (১০৪৯২) জনের এমসিকিউ (সকল সেট) পুনরায় পরীক্ষা করেছি। এতে এক হাজার ১৪১ জন ফেল থেকে পাশ করেছে।

জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৯ জন। এ পুনঃপরীক্ষণে ৫ হাজার ৮০৯ জনের ফলাফল উন্নীত হয়েছে। সেখান থেকেও নতুন ১৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ফলাফলের শতকরা হারেরও পরিবর্তন হবে।

তিনি আরো জানান, দুইজন প্রধান পরীক্ষকের অদক্ষতার কারণে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তৈরি হয়েছিল, পরীক্ষার্থীদের উদ্বেগ, অভিভাবকদের উৎকণ্ঠা এবং আমাদের বিপর্যয় সব কিছুর জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করেছি। আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। অভিযুক্তদের বিধি মোতাবেক শাস্তি প্রদান করা হবে।

আত্মহত্যা করা মেধাবী শিক্ষার্থী সর্বজিত ঘোষ হৃদয় সংশোধিত ফলাফলে পাশ করেছে কিনা জানতে চাইলে বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, হৃদয়ের আত্মহত্যা দুঃখজনক বিষয়। এজন্য আমরাও শোকহত। তবে হৃদয়ের রোল নম্বর জানা না থাকায় তার ফলাফল বলা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান বোর্ড চেয়ারম্যান।

এদিকে, বরিশাল শিক্ষা বোর্ড থেকে বুধবার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর নগরীর উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র সর্বজিত ঘোষ হৃদয় সব বিষয়ে পাশ করেও ধর্ম বিষয়ে ফেলের ঘটনায় আত্মহত্যা করে। কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পেয়ে আত্মহত্যার ঘটনায় বোর্ডের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা আরো শঙ্কিত হয়ে পড়েন। তারা এই তিনদিন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন।

খারাপ ফলাফলের জন্য সন্তানদের কেউবা বকেছেন, কেউবা সান্ত্বনা দিয়েছেন, ছুটেছেন সন্তানদের বিদ্যালয় ও বোর্ডে। সব মিলিয়ে এই তিন দিনে তাদের ও সন্তানদের মানসিক যে বিপর্যয় ঘটেছে তা কাটিয়ে ওঠা সত্যিই কঠিন বলে জাগো নিউজকে জানান অভিভাবকরা।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.