Sylhet Today 24 PRINT

ধর্ম নিয়ে শিক্ষকের কটূক্তির সত্যতা পায়নি তদন্ত কমিটি

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১৯ মে, ২০১৬

নারায়ণগঞ্জের  পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগের কোন সত্যতা পায়নি  মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তদন্ত কমিটি। বরং মিথ্যা এই অভিযোগ ছড়িয়ে এই শিক্ষকে লাঞ্ছিত করার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে তদন্তে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) সকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করাসহ মোট চার কারণ দেখিয়ে গত ১৬ মে ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে স্কুল কমিটি। তাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে আইন বহির্ভূত আখ্যায়িত করে স্বপদে বহাল রাখার সুপারিশও করেছে তদন্ত কমিটি।

আরও পড়ুন- সজিদের মাইকে গুজব রটিয়ে শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেন সেলিম ওসমান

গত ১৩ মে বিকেলে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ রটিয়ে  নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কল্যান্দি এলাকায় পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে সবার সামনে কান ধরে উঠবস করিয়ে ক্ষমা চাওয়ান স্থানীয় সংসদ ও জাতীয় পার্টি নেতা সেলিম ওসমান। সেলিম ওসমান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, শ্যামল কান্তি ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করায় এলাকাবাসীর রোষ থেকে তাকে বাঁচাতে গিয়েছিলেন তিনি। তবে ভিডিওতে দেখা যায় সাংসদ সেলিম ওসমান নিজেই শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করে শাস্তি দিচ্ছিলেন।

তবে তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, প্রধান শিক্ষক কোন ধর্ম নিয়ে কখনই কোন কটূক্তির তথ্য তারা পান নি। বরং তাকে লাঞ্ছিত করতেই এই মিথ্যা গুজব রটিয়ে দেয়া হয়।


শ্যামল কান্তি ভক্তের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনকে ঘিরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার মতো কিছু আমরা পাইনি। ভিন্ন একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। যে সভায় পরিচালনা কমিটি বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়, সে সভার এজেন্ডাতেই এ বিষয় ছিল না।

তদন্ত কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনের প্রাথমিক পর্যালোচনার ভিত্তিতে নেওয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তগুলো হলো- অযোগ্যতা এবং দায়িত্বহীনতার কারণে ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি বাতিল, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে নতুন পর্ষদ গঠন করে বিদ্যালয় পরিচালনা, আইন বহির্ভূতভাবে বরখাস্ত করায় শিক্ষক তার স্বপদে বহাল থাকবেন, আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা মানতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যতটুকু দায়িত্ব বর্তায় তা পালন করা হবে।

গত শুক্রবার বিদ্যালয়ে পরিচালনা কমিটির সভা চলার সময় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে তার শাস্তির দাবিতে লোক জড়ো করা হয়। এরপর উত্তেজিত লোকজন তাকে মারধর করে। এলাকার সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে প্রধান শিক্ষককে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করান। সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে প্রতিবাদের ঝড়। রুল জারি করেন হাইকোর্ট। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ঘটনা তদন্তে নামে মাউশি। তদন্ত শেষ করে বুধবার শিক্ষামন্ত্রী বরাবর প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিটি।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষা সচিব মো. সোহবার হোসেন, মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ফাহিমা খাতুনসহ ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.