নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৯ মে, ২০১৬
বর্তমানে দেশ জুড়ে সমালোচিত নাম সেলিম ওসমান। শিক্ষক লাঞ্ছনা করায় তার বিরুদ্ধে দেশবাসী উত্তাল হলেও নিশ্চুপ রয়েছে তার দল জাতীয় পার্টি।
সম্প্রতি বিভিন্ন ঘটনায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ সরব থাকলেও এখন পর্যন্ত তিনি বা তার দল এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করেননি। এ ব্যাপারে নিরব রয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদও। তবে দলের নেতা কর্মীরা জানিয়েছেন এ ঘটনায় বিব্রতকর পরিস্থিতে রয়েছে জাতীয় পার্টি।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, এই মুহূর্তে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা-ভাবনাও নেই। তবে সেলিম ওসমান সরকারি তদন্তে অভিযুক্ত হলে তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে জাপা ।
এর আগে গত শুক্রবার নারয়নগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতে স্থানীয় পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কানে ধরে উঠবস করানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সেলিম ওসমানের নির্দেশেই শিক্ষককে এ শাস্তি দেওয়া হয়। এতে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। সেলিম ওসমানের বিচার ও পদত্যাগ দাবি করছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। হাইকোর্ট এ ঘটনায় সেলিম ওসমানসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না-তা জানতে রুল জারি করেছেন।
তবে এ ব্যাপারে কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের জানান,‘ব্যক্তিগতভাবে আমি এ ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি। দলের সবাই বিব্রত মর্মাহত। কিন্তু দলীয় ফোরামে এ বিষয়ে এখনও কোন কথা হয়নি। ঘটনার তদন্তে সরকার কমিটি করেছে। যদি তদন্তে সেলিম ওসমান অভিযুক্ত হন, তবেই দলীয় ফোরাম তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। সরকার যেহেতু তদন্ত করছে, তাই জাতীয় পার্টি এ ঘটনার তদন্ত করবে না।’
জাপার একাধিক নেতা জানান, সেলিম ওসমান এরইমধ্যে পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদকে ঘটনাটি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি দলের সমর্থনও চেয়েছেন।
উল্লেখ্য,জাপা এমপি নাসিম ওসমানের মৃত্যুতে নারায়নগঞ্জ-৫ আসন শূণ্য হলে উপনির্বাচনে দলটির মনোনয়ন পান তারই ছোট ভাই সেলিম ওসমান। ২০১৪ সালের ২৬ জুন ওই উপনির্বাচনে জয়ী হন নারায়ণগঞ্জের আলোচিত-সমালোচিত ওসমান পরিবারের সদস্য সেলিম ওসমান।