সিলেটটুডে ডেস্ক | ২০ মে, ২০১৬
রাজধানী ঢাকার ধামরাইয়ে ১১ নং পশ্চিম সূত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছা. ফৈয়জিয়া ইয়াছমিনকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় সেই আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মালেককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ধামরাই থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এর আগে আব্দুল মালেকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় ধামরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন নির্যাতিতা শিক্ষিকা ফৈয়জিয়া ইয়াছমিন।
এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আক্তার হোসেন ও শিক্ষিকা মোসাম্মৎ কানিজ নাসিমা।
ধামরাই থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ রিজাউল হক দীপু বলেন, মামলার পর আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মালেককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।তদন্তসাপেক্ষে মামলার এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার সকালে প্রধান শিক্ষিকা ফৈয়জিয়া ইয়াছমিনকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করেন আওয়ামী লীগ আব্দুল মালেকসহ ওই বিদ্যালয়ের আরও দুই শিক্ষক।
জানা গেছে, উপজেলা পশ্চিম সূত্রাপুর গ্রামের ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফৈয়জিয়া ইয়াছমিন সহকারী শিক্ষকদের নিয়ে অফিসকক্ষ পরিবর্তন করেন গত সোমবার। অন্য একটি কক্ষ অফিস হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন তিনি।
এ নিয়ে সহকারী শিক্ষিকা কানিজ নাসিমা ও সহকারী শিক্ষক আক্তার হোসেনের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এরই জের ধরে বুধবার সকালে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মালেককে ডেকে আনেন ওই দুই শিক্ষক।
এ সময় আব্দুল মালেক প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে প্রধান শিক্ষিকাকে মারতে উদ্যত হন। এ সময় তিনি ভয়ে ক্লাসকক্ষের টয়লেটের ভিতরে আশ্রয় নেন। পরে টয়লেট থেকে তাকে টেনে-হিঁছড়ে বেড় করে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কাজী মুহাম্মদ ফজলুর রহমানের উপস্থিতিতে এবং শিক্ষার্থীর সামনে তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেন আব্দুল মালেক।
এখবর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে গেলে এসব মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়।