Sylhet Today 24 PRINT

মহান চা শ্রমিক দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২০ মে, ২০১৬

মহান চা শ্রমিক দিবস আজ ২০ মে। আজকের দিনের সাথে মিশে আছে চা- শ্রমিকদের আত্মত্যাগের ইতিহাস।  

উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে ভারতে চা- শিল্পের সূচনা। বাংলাদেশে সিলেটে ১৮৫৪ সালে মালনীছড়া চা- বাগান প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে বাণিজ্যিক ভাবে চা- উৎপাদন শুরু হয়। চা- শিল্প লাভজনক হওয়ার ফলে বৃটিশ কোম্পানি একের পর এক বাগান প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করলে প্রচুর পরিমাণ চা- শ্রমিকদের প্রয়োজন হয় তখন দক্ষিণ ও মধ্য ভারতের অনুর্বর অ ল উড়িষ্যা, মাদ্রাজ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, আসাম, মিজোরাম প্রভৃতি অঞ্চলে অভাব পীড়িত হাজার হাজার বেকার কৃষক মজুরদের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে অনেক ক্ষেত্রে দালালদের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থান থেকে পুরুষ নারী ও শিশুদের জোরপূর্বক নিয়ে আসা হয়।

এসকল মানুষদের আসাম ও সিলেট অঞ্চলে গহীন জঙ্গলে নাম মাত্র মজুরীতে অমানুষিক পরিশ্রম করতে বাধ্য করে। সারা দিনের খাটুনিতে তারা ঠিকমত খাবার জুটাতে পারত না। অখাদ্য অসুখ বিসুখ মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া বিষাক্ত সাপের কামড় হিংস্র জন্তু জানোয়ারদের আক্রমণ এবং একি সাথে মালিকদের নির্মম নির্যাতন চলত রাষ্ট্রিয় আইনে এমনি একটি আইন “ওয়ার্ক ম্যানন্স ব্রিচ অব কন্ট্রাক্ট এক্ট” যে আইনে বলা হয়েছিল যদি শ্রমিকরা চুক্তিভঙ্গ করে বাগান থেকে চলে যেতে চায়, তা হবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বাগান মালিকদের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল তাদের গ্রেফতার করার।

এরকম অসংখ্য জঘন্য কাল আইনের বেড়াজালে শ্রমিকদের জীবন প্রায় দাসত্বের জীবনের পরিণত হয়েছিল। চা- শ্রমিকদের বেঁচে থাকার কোন পথ খোলা ছিল না। অসহায় এই শ্রমিকদের আর্তনাদে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল অথচ এই শ্রমিকদের বলা হয়েছিল “গাছ হিলায়ে তো পয়সা মিলেগা” এখানে টাকার গাছ আছে গাছে ঝাঁকি দিলে টাকা মিলবে সেই গাছের টাকায় তাদের দুঃখ ঘুছে যাবে। গাছ থেকে টাকা আসতো টিকেই, তা পুরোটাই চলে যেত মালিকের পকেটে আর চা- শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ ছিল অকথ্য নির্যাতন শোষণের দুর্বিষহ জীবন তাই তারা পরস্পরের সাথে যোগাযোগ করে নিজ মুল্লুকে যাওয়ার বাসনা নিয়ে দিনক্ষণ ঠিক করে রওয়ানা দিল নিজ মাতৃভূমির উদ্দেশ্যে।

প্রায় ৩০হাজার চা- শ্রমিক রেল লাইন দরে দিনের পর দিন হাঁটতে হাঁটতে চাঁদপুর মেঘনা নদীর তীরে গিয়ে জমা হল। শ্রমিকরা জানত শুধু চাঁদপুর থেকে স্টিমারে করে কলকাতা যাওয়া যায়। পথে খাদ্য এবং পানির অভাবে অনেক শ্রমিক মারা গেল, পথে পথে গ্রামের মানুষজন সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের সাহায্য করেছিল। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন পণ্ডিত দেওশরন এবং পণ্ডিত গঙ্গা দয়াল দীক্ষিত। অন্যদিকে বাগান মালিকরা সরকারের সহযোগিতায় চা শ্রমিকদের প্রতিরোধ করতে চাঁদপুর মেঘনা ঘাটে আসাম রাইফেলস এর গুর্খা সৈন্য মোতায়েন করে।

শ্রমিকরা যখন স্টিমারে উঠতে গেল তখন গুর্খা সৈন্যরা বাধা দিল এবং তাদের বিদ্রোহ দমনের জন্য নির্বিচারে গুলি শুরু করল এতে শত শত চা শ্রমিক মারা গেল এবং শ্রমিকদের রক্তে মেঘনার নদীর জল লাল হয়ে গিয়েছিল। ইতিহাসে যুক্ত হল মালিক শ্রেণী কর্তৃক শ্রমজীবী মানুষকে পৈশাচিক ভাবে হত্যার একটি ঘৃণ্যতম লোমহর্ষক ঘটনা।

চা শ্রমিক দিবস’ এর ৯৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে ২০মে ২০১৬ শুক্রবার বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে।

অনুষ্ঠানসূচীর মধ্যে বাগানে বাগানে অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে পুষ্পস্তবক অর্পণ, র‌্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

 

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.