সিলেটটুডে ডেস্ক | ২০ মে, ২০১৬
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভদ্রকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। ওই শিক্ষককে লাঞ্ছনাকারী সাংসদ সেলিম ওসমানের শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। তবে হেফাজত ইসলাম উল্টো শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভদ্রের শাস্তি দাবি করেছে।
ওই শিক্ষককের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে তাঁর শাস্তি চেয়েছে ধর্মভিত্তিক এই সংগঠনটি। যদি এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে আনা ধর্ম নিয়ে কটুক্তির কোনো প্রমাণ পায় নি বলে বৃহস্পতিবার জনিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
তবে নারায়নগঞ্জ জেলা হেফাজতের আমির আবদুল আউয়াল বলেন, ‘আমাদের একটি টিম শুরু থেকে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছেন। প্রকৃত ঘটনা বের করতেই আমরা তদন্ত শুরু করি। ঘটনাস্থল বন্দরের কল্যান্দীতে আমাদের টিম যায়। সেখানে তারা প্রকৃত সত্য বের করার চেষ্টা করে এবং আরও লোকজনদের সঙ্গে কথা বলেন। সবশেষ বৃহস্পতিবার আমরা ৪০-৫০ জন ইমাম ও আলেম দ্বীনেরা মসজিদে রিফাতকে ডেকে আনি। সে পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানায়- ওই শিক্ষক নাকি আল্লাহকে কটূক্তি করে বলেছেন ‘তুইও নাপাক তোর আল্লাহও নাপাক’।
নারায়নগঞ্জের হেফাজত নেতাদের দাবি, লাঞ্ছনার ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই ইসলামকে কটূক্তির বিষয়টি চাপা দেওয়া হয়েছে। তারা বলেছেন, আল্লাহকে কটূক্তি করার সূত্র ধরেই ওই ঘটনার সূত্রপাত। এ কারণে ওই শিক্ষকের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে। একই সময়ে শিক্ষককে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত বাতিলসহ শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে নারায়ণগঞ্জ থেকে হরতাল, অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা করা হবে।
শুক্রবার দুপুরে জুমআর নামাজের পর নারায়নগঞ্জ শহরের ডিআইটি মসজিদের সামনে বঙ্গবন্ধু সড়কে ‘নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের মুসলিম জনতা’ ইসলামকে কটূক্তির প্রতিবাদে ওই সমাবেশে এই আলটিমেটাম দেওয়া হয়। পরে একটি মিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সভাপতির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজতে ইসলামের আমির ও ডিআইটি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল আউয়াল বলেন, ‘যে ঘটনা নিয়ে সূত্রপাত আমরা ইতোমধ্যে সেই ছেলের (রিফাত) সঙ্গে কথা বলেছি। সে মসজিদে বসে আমাদের কাছে স্বীকার করেছে যে- ইসলাম নিয়ে ওই শিক্ষক কটূক্তি করেছেন। তাই নারায়ণগঞ্জের মুসলিম জনতা এ ব্যাপারে আর বসে থাকছে না। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যদি শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের শাস্তি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং শিক্ষক পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত বাতিল না হয় তাহলে নারায়ণগঞ্জে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে সারাদেশ অচল করে দেওয়া হবে।’
ওই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলা হেফাজতের সদস্য সচিব মাওলানা আবদুল কাদির, জেলার সমন্বয়ক ফেরদাউসুর রহমান, ওলামা পরিষদের আহ্বায়ক মুফতি আবুল হাশেম, মাওলানা এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী, মুফতি দেলোয়ার হোসেন, মুফতি হারুন অর রশিদ, মুফতি সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা আনিস আনসারী, মাওলানা আব্দুল লতিফ।
সমাবেশে যে ছাত্রকে নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত সেই রিফাত হাসানও উপস্থিত ছিলো। এসময় ঘটনার বিবরণ দেন রিফাত এবং শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত ইসলাম নিয়ে কটূক্তি করেছেন বলে অভিযোগ করে।
গত ৮ মে নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার স্কুলে রিফাত হোসেন নামের স্কুলছাত্রকে মারধরের সময়ে ক্লাসরুমে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনার জের ধরে ১৩ মে স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে গণপিটুনি এবং পরে তাকে উদ্ধারের সময়ে কান ধরে উঠবোস করান এমপি সেলিম ওসমান।
যদিও ধর্মীয় কটূক্তির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক।