Sylhet Today 24 PRINT

কয়েক ঘন্টা পর উপকূল ছাড়বে \'দুর্বল\' হওয়া রোয়ানু, ঘটাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২১ মে, ২০১৬

দ্রুত ধেয়ে আসলেও রোয়ানুকে 'দুর্বল ঘূর্ণিঝড়' বলে মত দিয়েছেন আবহাওয়া ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। মালয়েশিয়া প্রবাসী আবহাওয়া ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ একেএম ওয়াহিদুজ্জামান জানান, রোয়ানুর প্রভাবে বড় আকারের জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা না থাকলে পাহাড় ধ্বসরে সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ঢাকাস্থ আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছে আর ৪-৫ ঘণ্টা পর অর্থাৎ রাত দশটা নাগাদ উপকূল ছেড়ে যেতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি।

দুপুরে মালয়েশিয়া থেকে টেলিফোনে একেএম ওয়াহিদুজ্জামান গণমাধ্যমে জানান, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ বিবেচনায় রোয়ানুকে দুর্বল হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে। এর প্রভাবে উপকূলের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।  তবে এটি শ্রীলংকা এবং ভারত উপকূলে ইতিমধ্যেই যথেষ্ট শক্তি হারিয়ে ফেলায় নিকট অতীতে সিডর, আইলা বা নার্গিসের মত তেমন প্রলয়ঙ্করী হবে না, বরং মহাসেনের মত প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটাবে।

একেএম ওয়াহিদুজ্জামান আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে প্রচণ্ড বাতাস শুরু হয়েছে।  ইতোমধ্যে উপকূলীয় এলাকাসহ সারাদেশে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।  ভোলার তজুমদ্দিনে ঝড়ের কবলে গাছ ও বাড়ীচাপা পড়ে দুইজন নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে।  অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ও দোকানপাট বিধ্বস্ত হয়েছে বলেও জানা গেছে।  এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

‘ঘূর্ণিঝড়টির কারণে শ্রীলংকায় ৪৩জন নিহত হয়েছে এবং লক্ষাধিক মানুষকে বাড়ি থেকে সরিয়ে নিতে হয়েছে।  ভারতেও প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’

আরও পড়ুন : ঘূর্ণিঝড়ে করণীয় কী?

‘বাংলাদেশেও এই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে পাহাড় ধস এবং গাছ বা বাড়ী ধসে মৃত্যুর সম্ভাবনা আছে।  তাই পাহাড় কেটে তৈরি করা বসতির সবাই নিরাপদ অবস্থানে চলে যাওয়া এবং কাঁচা বাড়িতে অবস্থান না করে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়াই নিরাপদ। ’ বলেন একেএম ওয়াহিদুজ্জামান।

কক্সবাজারে বেড়াতে যাওয়া সিলেট শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশগুপ্ত বিকেল ৪টায় সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, হালকা বাতাস ও বৃষ্টিপাত হলেও উপকুল এলাকার প্রকৃতি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে শনিবার সকালে পাহাড় ধসে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুজন নিহত হয়েছে, ষোলোশহরে প্রাণ হারিয়েছে এক শিশু। ভোলার তমিজুদ্দিনে নিহত হয়েছে দুজন। নৌযান ডুবিতে নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত: দশজন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.