Sylhet Today 24 PRINT

‘শ্যামল কান্তি নয়, সেলিম ওসমানই ধর্ম অবমাননা করেছে’

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২১ মে, ২০১৬

বেশ কয়েকজন শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আর শ্যামল কান্তি ভক্তর ঘটনায় তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মেজবাহ কামাল।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। বরিশালের ভান্ডারিয়ায় ম্যাজিস্ট্রেট শিক্ষককে পা ধরিয়েছে। আর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে হত্যা করা হলো। এসব ঘটনা মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। এবার যখন শ্যামল কান্তি ভক্তকে অপমান করা হলো তখন সারাদেশের বিবেকবান মানুষ প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে।

অধ্যাপক মেজবাহ কামাল বলেন, কেউ আইনের উর্ধে না। সংসদ সদস্য আইন প্রণয়ন করেন কিন্তু আইনের উর্ধে নয়। যদি শ্যামল কান্তি অপরাধ করে থাকে তাহলে আইনে তার যে বিচার হওয়ার কথা তা হবে। কিন্তু তার কোন তদন্ত না করে তাকে কান ধরে উঠবস করালেন। গালে চর মারলেন। তার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ করা হয়েছে। অথচ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্তে তার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। সেলিম ওসমান সংবাদ সম্মেলনে যে সাম্প্রদায়িক বক্তব্য দিয়েছেন তাতে শ্যামল কান্তি নয় তিনিই ধর্ম অবমাননা করেছেন। সাংসদ তার বোনকে চাকরি দিতেই এসব ঘটনা সাজানো হয়েছে।

মেজবাহ কামাল বলেন, সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে কোন হত্যা বা অপরাধের পর তার গায়ে নাস্তিকের তকমা লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে। যাকে হত্যা করা হলো সে ব্যক্তি যদি নাস্তিক কিংবা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেও থাকে তাহলে রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু দেখা যাচ্ছে এসব ঘটনায় ধর্মকে লাগিয়ে দিতে পারলেই সরকার, পুলিশ ও প্রশাসন পিছিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে অপরাধীরা যা ইচ্ছা তাই করতে পারছে। ব্লগার ও গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী রাজিব হায়দারকে হত্যার সঙ্গে সঙ্গে যদি বিচার হোত বা অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে পারত তাহলে পরের ঘটনাগুলো হয়তো ঘটতো না।

বাংলাদেশকে নিয়ে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত থাকতে পারে বলে মনে করেন অধ্যাপক মেজবাহ কামাল। তিনি বলেন, আমেরিকা সবসময় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাকগলানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ হত্যাকান্ডের তদন্ত করতে আমেরিকার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসেছিল। কিন্তু এ দলটি হত্যাকান্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ও কিছু কাজও করে। তবে তারা অপরাধীদের চিহ্নিত করতে পারেনি। দেশীয় গোয়েন্দা সংস্থার চেয়ে এফবিআই ভালো কিছু করতে পারবে না। এরপরেও আমেরিকা তাদের খবরদারিত্ব বাংলাদেশে বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। আর বিশ্বব্যাংক তো কিছুদিন আগেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। দুর্নীতির কথা বলে পদ্মা সেতু তৈরির জন্য অর্থ বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তার কারণে সেই পদ্মা সেতু তৈরি হচ্ছে। এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কিছু ইঙ্গিত দেয়।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.