সিলেটটুডে ডেস্ক | ২২ মে, ২০১৬
ব্লগার, প্রগতিশীল লেখক ও প্রকাশক হত্যায় জড়িত হিসেবে চিহ্নিত ছয় জঙ্গির দেশত্যাগ ঠেকাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রেড অ্যালার্ট জারি করার পর বেনাপোল সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মোমিনুল ইসলাম বলেন, তারা যাতে দেশত্যাগ না করতে পারে সে জন্য বাড়তি সতর্কতা রাখতে সরকারিভাবে আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাচ্ছেন তাদের পাসপোর্ট ও ভিসা সঠিকভাবে যাচাই করে তারপর দেশত্যাগের অনুমতি দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
পাশাপাশি বেনাপোলসহ যশোর জেলার বিভিন্ন সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে যশোর ২৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সীমান্ত পথে অপরাধীরা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারে সে জন্য তারা সতর্ক রয়েছেন। পাশাপাশি সীমান্ত পথে অবৈধ অনুপ্রবেশরোধেও বিজিবি কড়া নজরদারি রেখেছে বলে জানান জাহাঙ্গীর।
শরীফ সেলিম, সিফাত, রাজু সিহাব ও সাজ্জাদ নামে ৬ আনসারুল্লাহ সদস্যকে খুঁজে দিলে তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকাসহ মোট ১৮ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছে ডিএমপি।
আরও পড়তে পারেন : লেখক-ব্লগার-প্রকাশক হত্যাকাণ্ডে ৬ সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ
ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার মারুফ হোসেন সর্দার এই পুরস্কার ঘোষণার কথা জানিয়ে বলেন, “এরা প্রত্যেকে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সঙ্গে সম্পৃক্ত।”
এই ছয়জনের মধ্যে শরিফুল ওরফে সাকিব ওরফে শরিফ ওরফে সালেহ ওরফে আরিফ ওরফে হাদী-১ এবং সেলিম ওরফে ইকবাল ওরফে মামুন ওরফে হাদী-২ এর জন্য পাঁচ লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
বাকি চারজনের প্রত্যেকের জন্য দুই লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।
এই চারজন হলেন- সিফাত ওরফে সামির ওরফে ইমরান, আব্দুস সামাদ ওরফে সুজন ওরফে রাজু ওরফে সালমান ওরফে সাদ, শিহাব ওরফে সুমন ওরফে সাইফুল এবং সাজ্জাদ ওরফে সজিব ওরফে সিয়াম ওরফে শামস।
সন্ধান দাতাকে এই পুরস্কার দেওয়া হবে জানিয়ে পুলিশের ঘোষণায় বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে সংগঠিত ব্লগার, প্রগতিশীল লেখক, প্রকাশক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো ‘অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে’ তদন্ত করে আসছিল ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বাড্ডার সাতারকুল ও মোহাম্মদপুরে দুটি ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযান চালিয়ে গোয়েন্দা বিভাগ জানতে পারে- আস্তানা দুটি আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের ‘সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ ও ‘বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।