Sylhet Today 24 PRINT

বায়োমেট্রিক সিম জালিয়াতি করে অর্থ চুরি, রবি বলছে ‘অন্য গল্প’

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২৩ মে, ২০১৬

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত একটি সিম জালিয়াতি করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় চট্টগ্রামে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মোবাইল অপারেটর রবির সিম ব্যবহার করে বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ জালিয়াতির এ ঘটনা ঘটেছে। তবে রবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এমনটি সম্ভব নয়, এর পেছনে হয়ত অন্য গল্প রয়েছে।

রোববার বিকালে নিজ কার্যালয়ে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘আমরা একটি অপরাধী চক্র গ্রেফতার করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে- শুধু রবি থেকে যে ফিঙ্গার প্রিন্ট নেয়া হচ্ছে, যে কোনো ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়েই সিম তুলে ফেলতে পারছে। একই সিম বার বার তোলা হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু হওয়ায় এখন আর আঙুলের ছাপ না দিয়ে সিম কেনা বা নিবন্ধন সম্ভব হওয়ার কথা নয়। তবে এ পদ্ধতিতে গ্রাহকের বায়োমেট্রিক তথ্য চুরি করে অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে জনমনে উদ্বেগ ছিল।

এ নিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদনও হয়েছিল। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বরাবরই জনগণকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, তথ্য চুরি ঠেকানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, সাতকানিয়া থানার রঙ্গিপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুরুন্নাহার অভিযোগ নিয়ে এলে তারা সিম জালিয়াতির বিষয়টি জানতে পারেন।

ওই নারীর অভিযোগ, গত ২১ এপ্রিল তার নামে নিবন্ধিত রবি সিমটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, যে সিম তিনি বিকাশ অ্যাকাউন্টের জন্যও ব্যবহার করতেন।

সিম বন্ধের কারণ জানতে নুরুন্নাহার সাতকানিয়ায় রবি সেবা কেন্দ্রে গেলে তাকে বলা হয়, অন্য আরেকজন ‘ওই সিম তুলে নিয়েছেন’।

নুরুন্নাহার পুলিশকে বলেছেন, বৈধ মালিক হিসেবে তিনি পুনরায় ওই সিম তোলার পর দেখতে পান, তার বিকাশ অ্যাকাউন্টে থাকা ২০ হাজার ৪০০ টাকা তুলে ফেলা হয়েছে।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ সিম তোলার সময় ব্যবহৃত জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর নিয়ে কুতুব উদ্দিন (৩২) ও মো. ফরহাদ (৩০) নামে দুজনকে গ্রেফতার করে। তারা আগে বিকাশ এজেন্ট ও সিম ডিস্ট্রিবিউশন প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন।

চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) একেএম এমরান ভূঁইয়া জানান, গ্রেফতার ফরহাদ তার জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ১০০টি এবং কুতুব ৫৭টি সিম তুলেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘এসব সিমের অধিকাংশের মালিক অন্য লোক। আমরা তাদের অনেকের সঙ্গে যোগযোগ করেছি। তারা জানিয়েছেন, তাদের সিমও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরে তারা আবার তুলেছেন।’

পুলিশ কর্মকর্তা এমরান বলেন, তোলা ‘সহজ হওয়ায়’ রবির গ্রাহকদের ‘টার্গেট করা হচ্ছিল’ বলে গ্রেফতার দুজন জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। তারা বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে সিমটি ফেলে দিত। এভাবে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।

তবে এক্ষেত্রে রবির কোনো দুর্বলতা থাকার কথা অস্বীকার করে কমিউনিকেশনস ও করপোরেট রেসপনসিবিলিটি বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইকরাম কবির বলেন, ‘বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত সিম প্রকৃত মালিক ছাড়া কোনোভাবেই পুনরায় উত্তোলন সম্ভব নয়। এখানে অন্য কোনো গল্প থাকতে পারে, যে বিষয়টি আমরা জানি না।’

 

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.