Sylhet Today 24 PRINT

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়েই শিশুকে হত্যা করেন মুয়াজ্জিন

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২৩ মে, ২০১৬

আরবি পড়ার উদ্দেশ্যে সহপাঠিদের সঙ্গে নারায়নগঞ্জের সুতালাড়া জামে মসজিদে যায় আট বছরের ছোট্ট শিশু সুমাইয়া আক্তার। এরপর সকল শিশুকে ছুটি দিয়ে দিলেও সুমাইয়া আক্তারকে মসজিদ ঝাঁড়ু দেয়ার নাম করে ছুটি দেননি মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ জহিরুল ইসলাম।

পরে শিশু সুমাইয়া আক্তারকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান তিনি। কিন্তু ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ওই শিশুকে হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের পুকুরের পানিতে ফেলে দেয় হয়। এমনটা জানিয়েই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মসজিদের গ্রেপ্তারকৃত মুয়াজ্জিন হাফেজ জহিরুল ইসলাম।

সোমবার বিকেলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির সত্যতা নিশ্চিত করেন রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন। তিনি বলেন, ‘পানিতে ফেলে শিশু হত্যাকাণ্ডের এমন ঘটনায় গত রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ জহিরুল ইসলাম। জবানবন্দিতে হাফেজ জহিরুল ইসলাম ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েই হত্যার পর গুম করার উদ্দেশ্যে শিশু সুমাইয়া আক্তারকে পুকুরের পানিতে ফেলে দেয় বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।’
 
উল্লেখ্য, গত শনিবার সকালে সুতালাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন পুকুরে শিশু সুমাইয়া আক্তারের (৮) মৃতদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছে দুপুর ১২টার দিকে ওই শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। শিশুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের আলামত পাওয়া যায়। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সুতালাড়া জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত হাফেজ জহিরুল ইসলাম চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানার রাগদুল এলাকার মৃত মোবারক হোসেনের ছেলে। একই সঙ্গে তিনি সুতালাড়া জামে মসজিদের মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

নিহত শিশু সুমাইয়া আক্তার নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর থানার সিংগারচারগোপাড়া এলাকার ওয়াজিদ মিয়ার মেয়ে। ওয়াজিদ মিয়া পরিবার নিয়ে সুতালাড়া এলাকার হাফেজ সিকদারের বাড়িতে বসবাস করে আসছেন।

এর আগে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, পরিবারের লোকজন শিশু সুমাইয়া আক্তারকে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও পায়নি। এছাড়া মোয়াজ্জিন পানিতে ফেলে হত্যার ঘটনা ঘটিয়ে ফের মসজিদের মাইকে শিশুকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে ঘোষণাও দিয়েছিলেন। হত্যাকাণ্ডের দুইদিন পর ওই শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুর বাবা ওয়াজিদ মিয়া বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় হত্যার পর গুম করার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.