সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৪ মে, ২০১৬
শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনাকারী সাংসদ সেলিম ওসমানের প্রতীকী বিচার করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রতীকী বিচারের অংশ হিসেবে একজন শিক্ষার্থী সেলিম ওসমানের মুখোশ পরে দশবার কান ধরে ওঠ-বস করে উপস্থিত জনতার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১ টায় সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দা-প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ’র ব্যানারে এই কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়।
এতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, নারায়নগঞ্জের গদফাদার সেলিম ওসমান ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্চিত করেছেন, যিনি ২৩ বছর ধরে জ্ঞানের আলো বিলিয়ে আসছেন। অথচ সরকারী তদন্তে যে গুজবের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।
তারপরও ন্যাক্কারজনক দৃষ্টান্ত সৃষ্টিকারী একজন আইন প্রণেতা সদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে দায়িত্বপালনকারী সাংবাদিকদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে ঔদ্ধত্য দেখাচ্ছেন। তার পক্ষে মাঠে নেমে শিক্ষক শ্যামল কান্তির ফাঁসির দাবিতে মাতম করছে হেফাজত বাহিনী।
এমন পরিস্থিতিতে দেশ ও জাতির পথ প্রদর্শক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানায় প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা। এখন সবাই সোচ্চার না হলে স্বাধীন, অসাম্প্রদায়িক, শোষনমুক্ত বাংলাদেশের জন্য পূর্বসূরিদের ত্যাগ অসম্মানিত হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারা।
‘ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে কটূক্তির’ অভিযোগে গত ১৩ মে শ্যামল কান্তি ভক্তকে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম ওসমান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে কান ধরে ওঠবস করান। এর আগে ওই শিক্ষককে মারধোরও করা হয়।
প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির দ্বন্দ্বের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এ ঘটনার ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরইমধ্যে বিভিন্ন সংগঠন সেলিম ওসমানের গ্রেফতার দাবি করেছে।