সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৫ মে, ২০১৬
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপানের প্রভাবশালী দৈনিক জাপান টাইমসে ‘বাংলাদেশ : একটি নতুন উন্নয়ন দৃষ্টান্ত’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ লিখেছেন।
নিবন্ধনে বাংলাদেশের নিজস্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং বৈশ্বিক ইস্যু হলেও কার্যকরভাবে চরমপন্থা ও জঙ্গিবাদের উত্থান মোকাবেলা করছে।
প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন ও আর্থ-সামাজিক প্যারামিটারে বাংলাদেশ নতুন উন্নয়ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
তিনি লিখেছেন, স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের টিকে থাকা নিয়ে পর্যবেক্ষকদের ধারণা আমরা মিথ্যা প্রমাণ করেছি। এটা বাংলাদেশের মানুষের প্রাণোচ্ছ্বলতা এবং আমাদের সাহসী পদক্ষেপের সংমিশ্রণ, যা আমাদের প্রবৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে গেছে, মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে নিয়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ভিশন-২০২১, আমাদের দল আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার, এতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ‘সোনার বাংলা’ গড়ার অঙ্গীকার রয়েছে, বর্তমানে এটি বাস্তব রূপ লাভ করেছে।
২০০৫-০৬ অর্থ বছরে আমাদের মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র ৫৪৩ মার্কিন ডলার। চলতি বছরের মার্চে তা বেড়ে এক হাজার ৪৬৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত সাত বছর ধরে বাংলাদেশে টেকসই জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৩ শতাংশ এবং চলতি বছরে আমরা তা ৭ দশমিক ০৫ শতাংশের প্রত্যাশা করছি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০০৫-০৬ সালের ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২৯ বিলিয়ন হয়েছে। দারিদ্রসীমা ১৯৯০ সালের ৫৬ শতাংশ থেকে ২০১৫ সালে ২২ দশমিক ৪ শতাংশ নেমে এসেছে।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ কাজে লাগানোর উপর ভিত্তি করেই আমাদের উন্নয়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিদেশী বিনিয়োগের জন্য একটি সক্রিয় পরিবেশ রয়েছে। আমাদের বিনিয়োগ ব্যবস্থা এই অঞ্চলের সবচেয়ে উদার ব্যবস্থার একটি। আমাদের বিনিয়োগ-বান্ধব নীতি বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত গন্তব্যে পরিণত হয়েছে, ফলে দেশের বেসরকারি খাতে পুরোদমে এবং গতিশীল উন্নয়ন হয়েছে। বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগে (এফডিআই) ঝুঁকি একেবারেই কম।
বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের সুবিধা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, অবাধ প্রস্থান নীতিসহ আমরা শতভাগ বিনিয়োগের অনুমতি দেই। লভ্যাংশ সহজে দেশে পাঠানো, বিদেশি বিনিয়োগের নিরাপত্তা ও বিদ্যুতের স্থিতিশীল মূল্য বজায় থাকে।
গণকেন্দ্রিক উন্নয়ন মডেলের মাধ্যমে বোঝার বদলে আমরা জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করেছি এবং আজ আমাদের দেশের প্রবৃদ্ধিতে ১২ থেকে ৬৪ বছর বয়সী ১০ কোটি ৫ লাখ মানুষ সরাসরি অবদান রাখছে। আমি দেখছি, আমাদের তরুণ কর্মশক্তি আমাদের উন্নয়ন দৃষ্টান্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি।
এছাড়া গত সাত বছরে অবকাঠামো, বিদ্যুৎ উৎপাদন, যোগাযোগ ও বন্দরের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নিয়ে লিখেছেন তিনি। নারীর আগ্রযাত্রার কথাও উল্লেখ্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী।