Sylhet Today 24 PRINT

সিঙ্গাপুর ফেরত ৫ বাংলাদেশি আনসারুল্লাহ বাংলাটিমে সম্পৃক্ত

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২৫ মে, ২০১৬

শ্রমিক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের (এবিটি) হয়ে কর্মী সংগ্রহের কাজ করছিলেন গ্রেফতারকৃত সিঙ্গাপুর ফেরত ৫ বাংলাদেশি।

তারা সংগঠন পরিচালনার জন্য অর্থ সংগ্রহ, জঙ্গি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রম ও কর্মী সংগ্রহের কাজ খুব গোপনীয়তার সঙ্গে করছিলেন বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ (ডিবি)।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. মিজানুর রহমান ওরফে গালিব হাসান (৩৮), মো. রাহা মিয়া পাইলট (২৯), মো. আলমগীর হোসেন (৩১), মো. তানজিমুল ইসলাম (২৪) ও মো. মাসুদ রানা ওরফে সন্টু খান (৩১)।

জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানো ওই পাঁচ বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করে ডিএমপি’র কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটি) ইউনিট। দেশে ফেরত পাঠানোর পর থেকেই তাদেরকে নজরদারিতে রাখে গোয়েন্দা পুলিশ। গত ০৩ মে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর বনশ্রী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে উগ্রবাদ সম্বলিত বেশ কিছু বই ও পাসর্পোট উদ্ধার করা হয়।

০৪ মে দুপুরে তাদেরকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের দশদিনের রিমান্ডের আবেদন জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মুনসুর আলী আনিস। শুনানি শেষে সাতদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন অতিরিক্ত সিএমএম আলী মাসুদ শেখের আদালত।

রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের (এবিটি) সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ডিবি। 

গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, সপ্তাহের প্রতি রোববার সিঙ্গাপুরের মোস্তফা সেন্টারের বিপরীতে সেরাঙ্গুন এলাকার অ্যাঙ্গুলিয়ার একটি মসজিদে বসে বৈঠক করতেন তারা। সেখানে তারা জিহাদি বয়ান, ওয়াজ ও জিহাদি ভিডিও দেখতেন। কিভাবে নতুনদের সংগঠনের ভেড়ানো যায়, সে ব্যাপারেও আলোচনা করতেন। নতুন সদস্যদের এ সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করতেন।   

গোয়েন্দা সূত্র আরও জানায়, তারা বিভিন্ন কৌশলে সংগঠন পরিচালনার জন্য অর্থ সংগ্রহ করতেন। সিঙ্গাপুরে থাকা অন্য বাংলাদেশিদের কাছে গিয়ে বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসার কথা বলে অর্থ নিতেন। তারা সেখানে থাকা বাংলাদেশিদের বলতেন যে, এই টাকা বাংলাদেশের বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য পাঠানো হবে। শুধু তাই নয়, উপার্জনের কিছু অংশ তারা এ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহার করতেন।

বাংলাদেশের আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের প্রধান জসিমউদ্দিন রাহমানির অনুসারী হিসেবেই তারা সংগঠিত হচ্ছিলেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের অনেকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে জসিমউদ্দিন রাহমানির সফট কপি পাওয়া গেছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রটি আরও জানায়, অভিযুক্তরা ড. জাকির নায়েক, আবুল কালাম, শাহ মতিউর রহমান মাদানি, আমানউল্লাহ্ বিন ইসমাঈল, আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফের ওয়াজ শুনতেন।

গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, সিঙ্গাপুরে যাওয়ার আগে তাদের জঙ্গি মতাদর্শ বা সংগঠনের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। সেখানে গিয়ে কিছুটা উগ্র মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হন। তবে বাংলাদেশে বা সিঙ্গাপুরে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর যে অভিযোগ করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত ১৩ জন বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করে সে দেশের পুলিশ। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ২৯ এপ্রিল বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

সিঙ্গাপুর অভিযোগ করেছে- আসামিরা দেশটিতে অবস্থান করে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের জন্য সদস্য সংগ্রহ করছিলেন। ২০০৭ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুরে দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক হিসেবে যান তারা। তাদের সবার কাছেই ওই দেশের ওয়ার্ক পারমিট ছিলো।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি, দক্ষিণ) মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, আটকের পর রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে আমরা বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি। আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের (এবিটি) সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তারা ওই দেশে গিয়েই এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে আমরা ধারণা করছি।

তবে এ বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।

এর আগেও গত বছরের ডিসেম্বরে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরত পাঠানো ২৬ জনের মধ্যে ১৪ জনের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে বাকি ১২ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.