সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৬ মে, ২০১৬
নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে কানধরে উঠ-বস করিয়ে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি আদালতে জমা দেয়ার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার(২৫ মে) অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে জমা পড়া তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে তার পদ থেকে পদত্যাগ করতে জোর করে সই নেয়া হয়েছে। যে ছাত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছিল, সেই শিক্ষার্থীও ‘একেক সময় একেক কথা বলেছে’।
যে প্রক্রিয়ায় শ্যামল কান্তিকে বরখাস্ত করা হয়েছিল তা বিধি বহির্ভূত হওয়ায় তাকে ওই পদে বহার রাখা হয়েছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
গত ১৮ মে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে উঠ-বসের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
একইসঙ্গে এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে সেটিও প্রতিবেদন আকারে আকারে আদালতে জমা দিতে বলা হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের প্রতি এ আদেশ দেয়া হয়।
ওই আদেশের ফলে আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজুর কাছে এ প্রতিবেদনটি দাখিল করা হয়েছে। গত ১৮ মে বুধবার বিচারপতি মইনুল ইসাম চৌধুরী ও বিচারপতি মোহাম্মদ ইকবাল কবির লিটনের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশ দেন।
আদেশে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনা তদন্ত করে ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন আদালত।
গত ১৩ মে ধর্ম অবমাননার গুজব রটিয়ে বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে নিজে নির্দেশ দিয়ে লাঞ্ছিত করেন সাংসদ সেলিম ওসমান। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে তার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী তীব্র প্রতিবাদ হয়। এসবের মধ্যেই শিক্ষককে উল্টো বরখাস্ত করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর শিক্ষামন্ত্রী সেই বিদ্যালয় কমিটিকেই বাতিল করে শিক্ষককে পুর্নবহালের ঘোষণা দেন। এরপর শিক্ষকের শাস্তি চেয়ে হেফাজতে ইসলাম সমাবেশ করে সরকারকে আল্টিমেটাম দেয়। যদিও সেই আল্টিমেটাম থেকে পিছু হটে তারা। সেলিম ওসমানও এই বিষয়ে আর কোন কথা বলবেন না বলে পিছু হটেন।