সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৭ মে, ২০১৬
ভোলার মনপুরা উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চরফৈজুদ্দিন গগন মেম্বারের বাড়িতে গত বুধবার বিকেলে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ ফাতেমাকে (১৫) পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর স্বামী মনিরুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন খান বলেন, এ ঘটনায় ইউনিয়নের গ্রাম-পুলিশ নূর মোহাম্মদ বাদী হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। পিঠা খাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী মনিরুল ইসলাম হাওলাদার স্ত্রী ফাতেমাকে মারধর করেন। এতে ফাতেমার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্বামী মনির হোসেন পলাতক ছিলেন। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার জংলারখাল থেকে মনিরকে আটক করা হয়।
থানা হেফাজতে থাকাকালে মনিরুল ইসলাম দাবি করেন, ‘আমার ছোট ভাইদের পিঠা খেতে না দেওয়ায় রাগ হয়ে ফাতেমাকে মাত্র একটি থাপ্পড় দিয়েছি। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে এসে দেখি ফাতেমা ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তাকে নামিয়ে আমি পালিয়ে যাই।’ ফাতেমা ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল বলে তিনি জানান।
থানা-পুলিশ ও গৃহবধূর স্বজনেরা জানান, সাত-আট মাস আগে চট্টগ্রাম বাঁশখালী থানার পশ্চিম বলীগাঁও গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিনের মেয়ে ফাতেমার সঙ্গে মনপুরা চরফৈজুদ্দিন গ্রামের গগন মেম্বার বাড়ির ছেলে মো. মনিরুল ইসলাম হাওলাদারের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পরই মনির স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করতেন। গত বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মনির আবার ফাতেমাকে মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ সন্ধ্যা সাতটার দিকে ঘটনাস্থলে যায়। পরদিন গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাতটায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠায়। সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী ফাতেমার পিঠের বাঁ পাশে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।