সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৭ মে, ২০১৬
জাতীয় পার্টি (এরশাদ) দলীয় সাংসদ সেলিম ওসমানের পক্ষ নিয়ে হঠাত করে মাঠ গরম করে আবার সেখান থেকে সরে গিয়ে এবার আত্মপক্ষ সমর্থন করে হেফাজতে ইসলাম নারায়ণগঞ্জের আমির বলছেন ‘হেফাজতের ব্যানারে আমরা গত শুক্রবার সমাবেশ করি নাই। আমরা সমাবেশ করেছি ‘সর্বস্তরের মুসলমান’-এর ব্যানারে।
একই সঙ্গে সাংবাদিকদের সামর্থ্য ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজতে ইসলামের এ আমির মাওলানা আব্দুল আউয়াল।
শুক্রবার (২৭ মে) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিআইটি জামে মসজিদে জুম্মার নামাজের খুতবার বয়ানে এসব কথা বলেন আবদুল আউয়াল। যদিও হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী একজন শিক্ষককে কানধরে ওঠ-বস করানোর পরও সাংসদ সেলিম ওসমানের ভূয়সী প্রশংসা করে ফেসবুকে এক ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেন।
আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘হেফাজতের ব্যানারে আমরা গত শুক্রবার সমাবেশ করি নাই। আমরা সমাবেশ করেছি ‘সর্বস্তরের মুসলমান’ ব্যানারে। সেখানে হেফাজতের কোনো নাম নাই। আমি হেফাজতের আমির হলেও এ পরিচয়ে সেখানে সভাপতিত্ব করি নাই। কিন্তু বলা হচ্ছে আমরা হেফাজতের ব্যানারে কাজ করছি। এটা যেসব সাংবাদিক প্রকাশ করছে তাদের সামর্থ্য ও যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাই আমি আহ্বান রাখবো আপনারা যারা সাংবাদিক তারা অবশ্যই সত্য প্রকাশ করবেন।’
ওই সময়ে তিনি নারায়ণগঞ্জের বন্দরে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় নিজের ও হেফাজতের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আমরা ওসমান পরিবার কিংবা কোনো গোষ্ঠীর পক্ষে মাঠে নামি নাই। আমরা ইসলামের পক্ষে মাঠে নেমেছি। কোনো স্বার্থ হাসিল, লোভ কিংবা অর্থের কারণে আমরা নামি নাই। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে অপবাদ দেয়া হচ্ছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই আমরা ওসমান পরিবারের দালালি করতে মাঠে নামি নাই। আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট।’
এছাড়াও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে উদ্দেশ করে মাওলানা আবদুল আউয়াল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর চারদিকে হিন্দু ও নাস্তিকেরা ঘিরে রেখেছে। তারাই এখন দেশে নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে মাদরাসাগুলো বন্ধের পাঁয়তারা করছে।’
প্রসঙ্গত, গত ১৩ মে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি এবং শিক্ষার্থীকে মারধর করার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কল্যান্দির পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে গণপিটুনি দেয়ার পর কান ধরে উঠবস করানো হয়। আর এ কাজে নারায়ণগঞ্জ-৪ (শহর ও বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান সরাসরি মদদ দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এরপর দেশব্যাপী তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনার ঝড় ওঠলে কোণঠাসা সাংসদ সেলিম ওসমানের পক্ষে মাঠে নামে হেফাজতে ইসলাম। এ ঘটনায় জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের সেলিম ওসমানের সমালোচনা করে জানিয়েছিলেন ওই সাংসদের এ কাণ্ডকীর্তিতে তাদের দলও বিব্রত।
যদিও অনলাইনে ফাঁস হওয়া এক অডিওটেপে এক সাংবাদিকের সঙ্গে কথোপকথনে সর্বমোট ৮২ বার অশ্লীল গালিবাজি করা সেলিম ওসমান এক মতবিনিময় সভায় দাবি করেন এরশাদ তাকে বলেছিলেন, সেলিম তো "আল্লাহর ওলি" হয়ে গেছো। দেশের কোটি কোটি মানুষ তোমার জন্য দোয়া করছে।