সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৮ মে, ২০১৬
পঞ্চম দফা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনী সংঘর্ষে ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট বক্স ছিনতাইসহ নির্বাচনী সংঘাতে আহতের সংখ্যা কয়েকশত।
শনিবার (২৮ মে) সারাদেশে ৪৫টি জেলার ৭১৭টি ইউনিয়নে একযোগে ভোটগ্রহণ চলে। এর মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।
সংঘর্ষে দুজন প্রার্থী নিহত হয়েছেন। তাদের একজন কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী। অন্যজন চট্টগ্রামের পটিয়ার বড় উঠান ইউনিয়নে সদস্য প্রার্থী।
অনিয়মের অভিযোগে বেশকিছু কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাচনী কর্মকর্তা। কারচুপি ও ব্যালটে প্রকাশ্যে সিল মারা, এজেন্টদের নির্বাচন কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার প্রতিবাদে বিএনপি প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জনেরও ঘোষণা দিয়েছেন।
কেন্দ্রে ঢুকে ব্যালটপেপারে জোর করে সিল মারা, ছিনতাই, বিরোধী প্রার্থীদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, প্রতিন্দ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের উপর হামলার অসংখ্য খবরের পরও দুপুরে ইসি কার্যালয়ে সংবাদকর্মীদের কমিশনার আবু হাফিজ বলেছেন, ভোট মোটামুটি ‘ভালো’ হচ্ছে। যেখানে অনিয়মের খবর পাওয়া যাচ্ছে সেখানে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে দিচ্ছেন কর্মকর্তারা।
জামালপুর : জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভোট চলাকালে দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৪ জন নিহত এবং পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার ইউপি নির্বাচনের পঞ্চম ধাপের ভোট চলাকালে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের ফুটারচর মাদ্রাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের কুতুবের চর গ্রামের জিয়া (৩২), একই গ্রামের নবম শ্রেণির ছাত্র নবীরুল ইসলাম (১৫), শেখপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম (৫০) ও একই গ্রামের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মাজে মিয়া (১৫)।
পটিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় নির্বাচনী সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন হলেন মো. ইয়াসিন এবং অন্যজন বাবুল শীল। পটিয়া উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী মো. ইয়াসিন ভোট কেন্দ্র দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এবং বাবুল শীল দুই সদস্য প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে নিহত হন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়িতে উপপরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষে আহত অবস্থায় মো. ইয়াসিনকে হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কুমিল্লা : কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় একটি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনী সংঘর্ষে বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন টেটাবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলরামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। এবারের নির্বাচনে তিনি আনারস প্রতীকে অংশ নিয়েছিলেন। কুমিল্লার সহকারী পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন হাজারি এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নোয়াখালী : বেগমগঞ্জ উপজেলায় গুলিতে এক কিশোর এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তাড়া খেয়ে পালানোর সময় এক বৃদ্ধ মারা গেছেন।
উপজেলার জিরতলী ইউনিয়নে বাংলাবাজার কেবি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন মো. শাকিল (১৬)।
শাকিল জিরতলী ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের মো. মিলনের ছেলে।
তার দাদা মো. হারুন বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কেন্দ্রের বাইরে দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘গুলি ছুড়লে’ শাকিল গুলিবিদ্ধ হয়।
শাকিলকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু ঘটে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফ বলেন, “দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের গুলিতে শাকিলের মৃত্যু হয়েছে।
“পুলিশ সেখানে কোনো গুলি ছোড়েনি, তাই পুলিশের গুলিতে শাকিলের মারা যাওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন।”
এদিকে রাজগঞ্জ ইউনিয়নের দারুল উমল ফাজিল সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্রের সামনে র্যাবের ধাওয়া খেয়ে সবার সঙ্গে পালানোর সময় দেয়ালে মাথায় আঘাত পান সৈয়দ আহম্মদ নামে (৬০) এক ব্যক্তি।
তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান বেগমগঞ্জ থানার ওসি সাজিদুর রহমান সাজেদ।