সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৪ জুন, ২০১৬
বাংলাদেশে দৈনিক পত্রিকার ৯৩ শতাংশের মালিকই সম্পাদক এবং মাত্র ৭ শতাংশ সংবাদপত্রে পেশাদার সাংবাদিক সম্পাদকের পদে রয়েছেন বলে সংসদকে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ লতিফের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মঙ্গলবার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে এ প্রশ্ন উত্থাপিত হয়।
তথ্যমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে মোট দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ১ হাজার ৭৮টি। এর মধ্যে ১ হাজার ৫টিতে বা ৯৩ শতাংশ সংবাদপত্রে প্রকাশক ও সম্পাদক একই ব্যক্তি। ৭৩টি অর্থাৎ ৭ শতাংশ সংবাদপত্রে পেশাদার সাংবাদিক রয়েছেন সম্পাদকের পদে। ইনু বলেন, অধিকাংশ পত্রিকার প্রকাশক বা মালিকই সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। স্বল্প সংখ্যক পত্রিকার প্রকাশক পেশাদার সম্পাদক নিয়োগ করে থাকেন। সংবাদ সূত্র: বাসস।
মন্ত্রী জানান, দেশের ১০৭৮টি দৈনিক পত্রিকার মধ্যে বর্তমানে মিডিয়াভুক্ত ৪৩৪টি। ছাপা সংখ্যার ভিত্তিতে ঢাকা মহানগরীতে তালিকাভুক্ত ১২৪টি দৈনিক পত্রিকা এবং ঢাকার বাইরে থেকে প্রকাশিত ২৬০টি দৈনিক পত্রিকার প্রচার সংখ্যার তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রী।
নিজাম উদ্দিন হাজারীর লিখিত এক প্রশ্নের জবাবে ইনু জানান, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কেবল টিভি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিটিভি, বিটিভি ওয়ার্ল্ড ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হচ্ছে। ভারতে বাংলাদেশের চ্যানেলগুলো দেখা না যাওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত কোনও বাধা না থাকলেও প্রতিবেশী দেশটির কেবল অপারেটরদের অনাগ্রহের কথা জানান তথ্যমন্ত্রী।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে সংবাদপত্র ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে।
জাতীয় পার্টির সদস্য মোহাম্মদ ইলিয়াছের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সব মিডিয়া বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করবে- সরকার সবসময় এমনটাই আশা করে থাকে। তবে, অবাধ স্বাধীনতাভোগের সুযোগে কোনও কোনও পত্রিকা জনহিতকর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও প্রতিবেদন প্রকাশের পরিবর্তে অসত্য সংবাদ প্রকাশ করে থাকে, যা হলুদ সাংবাদিকতার নামান্তর।’
তিনি বলেন, ‘তথ্য অধিদফতর, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল, বাংলাদেশ প্রেস ইন্সটিটিউট (পিআইবি) এবং জাতীয় গণমাধ্যম ইন্সটিটিউট হলুদ সাংবাদিকতা রোধের ক্ষেত্রে কাজ করছে। পিআইবি হলুদ সাংবাদিকতা রোধের লক্ষ্যে সাংবাদিকদের সচেতন করার জন্য বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে এই বিষয়ে একটি সেশন পরিচালনা করে থাকে। এছাড়া হলুদ সাংবাদিকতার প্রবণতা ও প্রকরণ বিষয়ে পিআইবির একটি গবেষণা কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং তা রিপোর্ট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। হলুদ সাংবাদিকতা রোধের ক্ষেত্রে রিপোর্টটি অনেকটাই অনুঘটক (ক্যাটালিস্ট) হিসাবে কাজ করবে।’
হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে কর্মরত রিপোর্টাররা সংবাদ প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে মানদণ্ড অনুসরণের লক্ষ্যে জাতীয় গণমাধ্যমে ইন্সটিটিউট ‘এথিকস অব জার্নালিজম’ শিরোনামে সেশন পরিচালনা করে থাকে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল হলুদ সাংবাদিকতা রোধে সাংবাদিকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের জনসাধারণ যাতে বস্তুনিষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ সংবাদ পায় সেই লক্ষ্যে তথ্য অধিদফতর কর্মরত সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ প্রদানসহ অনলাইনভিত্তিক গণমাধ্যমকে নিবন্ধন কার্যক্রমের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া তথ্য অধিদফতর হলুদ সাংবাদিকতায় জড়িত সাংবাদিকদের নামে ইস্যুকৃত এক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করে থাকে।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সর্বোপরি বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল আইন, ১৯৭৪ যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে সংশোধন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।’