Sylhet Today 24 PRINT

এবার জাসদের সমালোচনায় খালেদা জিয়া

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১৫ জুন, ২০১৬

সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে তাদের জোটসঙ্গী জাসদকেই দায়ী করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। গুম-খুন নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটসঙ্গী জাসদকে ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেন, এই দলের লোকজন তখন আওয়ামী লীগের লোকজনকে খুন করত, গুম করত। তাদের নেতার সম্পর্কে কী খারাপ ভাষায় বক্তব্য দিত, যে খারাপ ভাষা ব্যবহার করত, অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করত! সেগুলোকে এখন হাসিনা ভুলে গিয়ে নিজের দলের লোকজনকে মূল্যায়ন না করে এই খুনি-অত্যাচারীদের মূল্যায়ন করছে। তার ফলেই দেশের এই অবস্থা হচ্ছে। তাদের (সরকার) মধ্যে আসল সব খুনিরা রয়েছে। তাদের দলে এমন সব লোক রয়েছে, তারা অনেক অভিজ্ঞ, অনেক আগে থেকেই তারা গুম-খুন করে এসেছে।

মঙ্গলবার বসুন্ধরা কনভেনশন সিটিতে বিএনপি সমর্থক প্রকৌশলীদের সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ-এ্যাব’ এর ইফতার অনুষ্ঠানে খালেদা বলেন, আওয়ামী লীগ যখন এক সঙ্গে স্বাধীনতা যুদ্ধে ছিল, এরাই কিন্তু আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। বিএনপির জন্মও তখন হয়নি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই ছাত্রলীগের বিভক্তি থেকে আওয়ামী লীগের একটি অংশ ‘বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের’ স্লোগান দিয়ে জাসদ গঠন করে বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরোধিতায় নামে। তখন আওয়ামী লীগ সরকার গঠিত রক্ষী বাহিনী ও জাসদের সামরিক শাখা গণবাহিনীর সংঘাতে অনেক প্রাণ ঝরেছিল।

পঁচাত্তরে সেনাবাহিনীর একটি দল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর টালমাটাল অবস্থায় সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে বন্দি করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ অভ্যুত্থান ঘটালে ৭ নভেম্বর জাসদের উদ্যোগে সেনাবাহিনীতে পাল্টা অভ্যুত্থানে মুক্ত হন জিয়া।
ওই অভিযানে নেতৃত্বদাতা জাসদের সামরিক শাখার অধিনায়ক অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আবু তাহেরকে পরে জিয়া সামরিক আদালতে বিচারের মাধ্যমে ফাঁসিতে ঝুলান। সেটা তাহেরকে ‘ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা’ ছিল বলে পরে হাই কোর্টের রায়ে মন্তব্য করা হয়।   

পরে ওই জাসদ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হয় এবং বর্তমানে ১৪ দলীয় জোটেও দলটি রয়েছে। জাসদের তখনকার সামরিক শাখার উপ-প্রধান হাসানুল হক ইনু দলটির সভাপতি হয়ে মন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন শেখ হাসিনার বর্তমান সরকারে।
তথ্যমন্ত্রী হিসেবে জাসদ সভাপতি ইনু বিএনপির সমালোচনামুখর। তিনি প্রায়ই খালেদা জিয়াকে ‘জঙ্গি নেত্রী’ আখ্যায়িত করেন, যার জন্য তাকে ‘অপপ্রচারমন্ত্রী’ বলেন বিএনপি নেতারা। বিএনপি চেয়ারপার্সন ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের উত্থান’ ঘটিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার ‘ষড়যন্ত্র’র জন্য আওয়ামী লীগকেই দায়ী করেন।

এসময় খালেদা জিয়া বলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) বিদেশিদের আশ্বস্ত করতে চান, তিনি নাকি এদেশে সন্ত্রাস দমন করবেন। তিনি সন্ত্রাস দমন করবে না। তিনি সারাদেশে সন্ত্রাস ছড়িয়ে দিয়ে এখানে জঙ্গিদের উত্থান ঘটিয়ে এই দেশে একটা অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করে দিতে চান। হাসিনা আজকে জেনে-বুঝে এই কাজগুলো করছে। একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটলেও খুনিরা ধরা না পড়ার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “এই মৃত্যৃ সম্পর্কে সে (শেখ হাসিনা) বলেছে সে জানে। তাহলে কেন তাদের ধরছে না? আসল খুনিদের আড়াল করে রেখে বা বিদেশে পার করে দিয়ে এখন বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী সকল নেতা-কর্মী এবং নিরীহ মানুষগুলোকে ধরে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে।

পুলিশের চলমান অভিযানে এ পর্যন্ত বিএনপির ২২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রায় ৫০ জনকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে। এ্যাব এর সভাপতি প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমানকে তিন বছর ধরে বিনা বিচারের আটক করে রাখা হয়েছে অভিযোগ করে তার মুক্তিও দাবি করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

সরকারের বিরুদ্ধে প্রকৌশলীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আজ দেশের মানুষ এই দুর্নীতিবাজ, জুলুমবাজ, খুনি, অত্যাচারী সরকারের হাত থেকে মুক্তি চায়। তাই এই রমজান মাসে আমরা সকলে দোয়া করব, আল্লাহতালা এই জালেম সরকার, তাদের বিচার করেন, তাদের শাস্তি দেন।

ইফতার অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাদের মধ্যে ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মাহবুবুর রহমান, নজরুল ইসলাম খান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আবদুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন, সেলিমা রহমান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, খন্দকার মাহবুব হোসেন,আহমেদ আজম খান, রুহুল আলম চৌধুরী, জহুরুল ইসলাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, শাহ আবু জাফর, আনোয়ার হোসেইন প্রমুখ।  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক সদরুল আমিন, ড্যাব নেতা এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সম্মিলিতি পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজী, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা আবদুল হাই শিকদার,  সৈয়দ আবদাল আহমেদ, কাদের গনি চৌধুরী, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া ছিলেন অনুষ্ঠানে। মহসিন আলী, খন্দকার রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, শফিউল আলম তালুকদার, মিয়া মো. কা‌ইয়ুম, আবদুল হালিম মিঞা, রিয়াজুল ইসলাম রিজু, জসিমউদ্দিন আহমেদসহ ৮ শতাধিক প্রকৌশলী ইফতারে অংশ নেন।


উল্লেখ্য, জাসদকে নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে মঙ্গলবার এই ইফতার অনুষ্ঠানে জাসদকে নিয়ে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের খালেদা জিয়া। এরমধ্যেই সোমবার ছাত্রলীগের এক অনুষ্ঠানে সৈয়দ আশরাফ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্র তৈরির জন্য জাসদকে দায়ী করে বলেন, তাদের একজনকে মন্ত্রী করার জন্য আওয়ামী লীগকে আজীবন প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। সৈয়দ আশরাফের এই বক্তব্য ‘ব্যক্তিগত মত’ বলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের প্রতিক্রিয়া জানালেও আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.