Sylhet Today 24 PRINT

ব্লগার, লেখক, প্রকাশক হত্যাকারী ৬ জঙ্গি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার দাবী পুলিশের

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১৫ জুন, ২০১৬

১৮ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা দিয়ে কাজ হয়নি। ১ মাসেও কেউ আসেনি আনসার উল্লাহ বাংলাটিমের (এবিটি) সেই ছয় সদস্যের সঠিক কোনো তথ্য নিয়ে। তাই মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মাঠে নেমে রাজধানীর কামরাঙ্গীর চর থেকে আটক করে সংগঠনের ২ সদস্যকে। তাদের কাছ থেকেই পুরস্কার ঘোষিত ওই ছয় জঙ্গি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

বুধবার বিকেলে উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) মো. মাশরুকুর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, কামরাঙ্গীর চর থেকে আটক হওয়া এবিটির দুই সদস্যকে আটকের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা পুরস্কার ঘোষিত এবিটির ৬ সদস্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। ওইসব তথ্য আমলে নিয়ে এরই মধ্যে ডিবির দুইটি টিম অভিযানে নেমেছে। দুই এক দিনের মধ্যেই তাদের আটক করা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই উপ-পুলিশ কমিশনার।

ডিবির এ কর্মকর্তা আরো বলেন, আমরা যতোটুকু জানতে পেরেছি এবিটির এই ৬ সদস্যই বিভিন্ন সময়ে ব্লগার, প্রগতিশীল লেখক ও প্রকাশক হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলো। তাদের তত্ত্বাবধানেই রাজধানীর বাড্ডার সাঁতারকুলে ডিবির ওপর হামলা চালানো হয়েছিলো।

চলতি বছরের ১৯ মে ব্লগার ও লেখক হত্যায় জড়িত সন্দেহে এবিটির ৬ সদস্যের ছবিসহ তথ্য প্রকাশ করে তাদের ধরিয়ে দিতে ১৮ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে ডিএমপি। এরা হলো- খুলনার শরীফ, উত্তরবঙ্গের সেলিম, সিলেটের সিফাত, কুমিল্লার সামাদ, চট্টগ্রামের শিহাব এবং ঢাকার পার্শ্ববর্তী কোনো জেলার সাজ্জাদ। এদের মধ্যে প্রথম দুজনকে ধরিয়ে দিতে পাঁচ লাখ টাকা করে পুরস্কার ও পরের চারজনের জন্য দুই লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করে ডিএমপি।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, এবিটির ৬ সদস্যের মধ্যে সবচেয়ে বিপদজ্জনক খুলনার শরীফ। সে জাগৃতি প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন, তেজগাঁওয়ে ওয়াশিকুর রহমান বাবু, সূত্রাপুরে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নাজিমউদ্দিন সামাদ এবং কলাবাগানে জুলহাজ মান্নান ও তনয় হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী। সিসিটিভি ফুটেজে অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডে শরীফের উপস্থিতিরও প্রমাণ পায় ডিবি।

প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যা, ওয়াশিকুর বাবু হত্যা, নিলাদ্রী নীলয় হত্যায় সরাসরি অংশ নেয় সিলেটের সিফাত। আজিজ সুপার মার্কেটে প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যা মিশনের সার্বিক সমন্বয় করে কুমিল্লার সামাদ। সে এবিটির সামরিক শাখার অন্যতম সদস্য। প্রকাশক আহম্মেদ রশীদ টুটুল হত্যাচেষ্টায় সরাসরি অংশ নেয় চট্টগ্রামের শিহাব। অভিজিৎ রায় হত্যা ও নিলাদ্রী নীল হত্যায় সরাসরি অংশ নেয় সাজ্জাদ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, এই ৬ সদস্যের মাধ্যমে বাড্ডা সাঁতারকুলে সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও মোহাম্মদপুরে বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে এবিটি।

উল্লেখ্য, সোমবার (১৩ জুন) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর কামরাঙ্গীর চর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সৈয়দ মো. মোজাহিদুল ইসলাম এবং আরিফুল ইসলাম সোলায়মানীকে আটক করে পুলিশ। পরে ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট খুরশীদ আলম শুনানি শেষে তাদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.