সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৯ জুন, ২০১৬
মীর কাসেমকে সমাজসেবক আখ্যা দিলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন । রোববার দুপুরে মীর কাসেম আলীর পক্ষে আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন তিনি ।
মীর কাসেম আলীর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন এসময় বলেন, ‘রাজনীতিক না, তিনি একজন ব্যবসায়ী, সমাজসেবক, তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশের মাটিতে মানুষের শিক্ষার জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য, মানুষের সুচিকিৎসার জন্য কাজ করেছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের বেকার যারা আছেন তাদের কর্মসংস্থানে তিনি সমাজসেবক হিসেবে কাজ করেছেন।’ একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলী রিভিউতে খালাস পাবেন বলেও মন্তব্য করেন ।
এর আগে মীর কাসেম আলীর পক্ষে ১৪টি যুক্তিতে ৮৬ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা। মীর কাসেমের বিরুদ্ধে ১৪টি অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে গঠন করা হলেও ১০টিতে তাকে দণ্ড দেয়া হয়। আপিলে সাতটি অভিযোগে সাজা পান তিনি। যার মধ্যে ১১ নম্বর অভিযোগে তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে। দুটি দিক বিবেচনায় সেই একটি মৃত্যুদণ্ডের চার্জ থেকে তিনি খালাস পাবেন বলে আশা খন্দকার মাহবুব।
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি জসিমকে হত্যার ব্যাপারে (১১ নম্বর অভিযোগ) মীর কাসেম আলী সাহেবকে অবশ্যই আপিল বিভাগ রিভিউতে খালাস দেবেন। এখানে দুটি ব্যাপারে রয়েছে, একটি হলো আপিল বিভাগ নিজেই স্বীকার করেছেন ট্রাইব্যুনালে যে বিচার হয়েছে সেখানে তাকে অ্যাবেটর (সহযোগী) হিসেবে দেখানো হয়েছে।’
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘কিন্তু আপিল বিভাগ তাকে অ্যাবেটর না দেখিয়ে সরাসরি প্রধান আসামি হিসেবে সাজা দিয়েছেন। যেটা আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে। এটা আইনসম্মত হয়নি। সেই কারণেই আমরা বিশ্বাস করি, তাই চার্জ নম্বর ইলেভেনে যেখানে জসিম হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে তাকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে সেটা কোনো অবস্থায়ই বহাল থাকবে না।’
জসিম হত্যার ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সবই বানানো বলে মন্তব্য করেছেন খন্দকার মাহবুব। একই সঙ্গে তার ভাইকে তদন্ত কর্মকর্তা পরীক্ষা করলেও সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন না করায় প্রশ্নও তোলেন।
তিনি বলেন, ‘জসিমের হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে প্রসিকিউশন যেসব সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়েছেন সবই শোনা কথা। তবে এখানে জসিমের এক বড় ভাই ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে আছেন রাজিব। তাকে তদন্তকারী অফিসার পরীক্ষা করলেও সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। আমরা মনে করি, তার মতো একজন শিক্ষিত ব্যক্তি যে নাকি জসিমের আপন ভাই, তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হলে প্রসিকিউশনের তরফ থেকে জসিম হত্যার ব্যাপারে মীর কাসেম আলীকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল সেটার ভিত্তি কতটুকু তা প্রমাণিত হতো।’
মীর কাসেম আলীর আইনজীবী বলেন, ‘জসিমের ভাই জীবিত থাকা অবস্থায় প্রসিকিউশন থেকে তাকে সাক্ষ্য না দিয়ে কতগুলো বানানো সাক্ষী দিয়ে তার বিচারের চেষ্টা করা হয়েছে। সেখানে অবশ্যই আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে।’ তা ছাড়া জসিম হত্যাকাণ্ডের সময় মীর কাসেম ঘটনাস্থল চট্টগ্রামে উপস্থিত ছিলেন না বলেও দাবি করেন খন্দকার মাহবুব।
তিনি বলেন, ‘যে সাক্ষ্য প্রমাণ আছে ও প্রসিকিউশন যে সাক্ষ্য দিয়েছেন সেখানে আমরা প্রমাণ করেছি, এই ঘটনার সময় মীর কাসেম আলী চট্টগ্রামে ছাত্রসংঘের কিছু ছিলেন না। ওই সময় তিনি ঢাকায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্বে ছিলেন। এজন্য আমাদের দালিলিক ও মৌখিক সাক্ষ্য রয়েছে। প্রসিকিউশনের সাক্ষীতেও তাই রয়েছে। তাই যদি হয়, যুদ্ধকালীন সময়ে যে যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল তখন অল্প সময়ের মধ্যে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়া অসম্ভব ছিল। এটা আপিল বিভাগ অবশ্যই বিবেচনায় নেবেন। তার রায় আশা করি সঠিকভাবে পর্যালোচনা করা হবে।’
আপিলের রায়ের আইনগত দুর্বলতা তুলে ধরে খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘আপিল বিভাগ যখন মামলা পর্যালোচনা করেন তখন স্বীকার করলেন জাজমেন্টেও উল্লেখ রয়েছে, যে অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে সেটা সঠিক নয়, ডিফেকটিভ চার্জ (ত্রুটিপূর্ণ অভিযোগ)। আইনের বিধান মতো যদি ডিফেকটিভ চার্জ হয়, তাহলে আপিল বিভাগ সেটা রিমান্ডে পাঠায়। সে ক্ষেত্রে আসামি পুনর্বিচারের সুযোগ পায়।’
উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ ট্রাইব্যুনালে মীর কাশেম আলীকে দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। ৬ জুন আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল দুটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দিলেও আপিল বিভাগ একটি অভিযোগে এই দণ্ড বহাল রাখেন।