Sylhet Today 24 PRINT

কিলিং মিশন : হিজবুত তাহরীরের প্রায় অর্ধশত জঙ্গি সক্রিয়

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২০ জুন, ২০১৬

সম্প্রতি চট্টগ্রামে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী, ভিন্নধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন  শ্রেণীপেশার নাগরিকদের গুপ্তহত্যার পর বিশেষ অভিযান কৌশল নিয়ে কাজ করছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এধরনের খুন ও নাশকতা এড়াতে জংগি সংগঠনের সদস্য ও কিলিং মিশনে সন্দেহভাজনদের তালিকা নিয়ে মাঠে নেমেছেন তারা।

নিষিদ্ধ সংগঠন হিজবুত তাহরীরের প্রায় অর্ধশত জঙ্গিকে গ্রেফতারে মাঠে সক্রিয় হয়েছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট এদের ধরতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।

আইন শৃংখলা বাহিনীর ধারনা, এ তালিকার জঙ্গিরা টার্গেট ব্যাক্তিকে অনুসরন থেকে শুরু করে দ্রুত খুন করে পালিয়ে যাওয়ার পর্যন্ত কর্মকান্ডে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তাদের আয়ত্বে অগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্র ব্যাবহারের নানা কৌশলও।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে ৪৯ জঙ্গির হাতে খুনের দীর্ঘ তালিকা রয়েছে। তাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা। ঢাকায় এদের কোনো গোপন আস্তানা আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

তাছাড়া, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর নেপথ্যে কারা জড়িত, এ সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করছে একটি সংস্থা। ইতিমধ্যে এ কাজে তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছে বলে সংস্থার এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন। তিনি জানান, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনজন শিক্ষককেও নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন সরকারবিরোধী বেশ কয়েক ব্যক্তি। জানা গেছে, এ ব্যক্তিরা গোপনে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। হিজবুতের হাইকমান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে তাদের। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নিষিদ্ধ সংগঠনটিকে নানাভাবে কাজে লাগাচ্ছে তারা। এদের অর্থও দিচ্ছে সরকারবিরোধীরা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত কমিশনার মো. দিদার আহাম্মদ গণমাধ্যমে বলেন, দেশে ভিন্ন ধর্মের লোকদের টার্গেট করে খুন করার কাজে জামায়াত-শিবিরের অপ্রকাশ্য শক্তি হিসেবে কাজ করছে হিজবুত তাহরির।

এ চক্রের অপরাধীরা একসময় শিবিরের সঙ্গেও জড়িত ছিল। এরাই খোলস পাল্টিয়ে হিজবুতের ব্যানারে ব্লগার, শিক্ষক, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, সেবক, লেখক, প্রকাশক, পুলিশ পরিবারের সদস্য এবং হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা করছে।

এদের হাতে আরও খুনের দীর্ঘ তালিকা আছে বলে আশংকা করছেন গোয়েন্দারা। আর এ মিশনে নিয়োজিত রয়েছে ৪৯ জঙ্গি। গোয়েন্দা সংস্থাটির হাতে হিজবুত তাহরীরের ওই ৪৯ জঙ্গির একটি তালিকা রয়েছে।

তালিকায় রয়েছে- আল মাসুদ, তাইফুল, জোবায়ের, হিমেল, খলিলুর, মোশাররফ, রাশেদুল হক, সবুজ ওরফে বাবু, পারভেজ,  ইরফান,  ফয়সাল, শামীম, শাহ নেওয়াজ, নওয়াজিশ, আল আমিন, আসিফুর, তৌফিকুল, শহীদুল, শাকিব, মাহিনুজ্জামান, ফেরদৌস, আসিফ ইকবাল, মুহিউদ্দিন, মাইন উদ্দিন, নূর মোহাম্মদ,  রাশেদ আহমেদ, মুনতাসির, নাজমুল হুদা, জাহেদুল আলম, মিনহাজ উদ্দিন, মোহাম্মদ হোসেন, হামিদুল্লাহ, পারভেজ শিকদার, মোসাদ্দেক, হারেস, প্রিন্স, সায়েদ ওরফে আদেল, রনি, অর্ণব, বাপ্পী, জাকির, রিটন, সিফাত, শিবলী, শুভ, তাহমিদ, তানজিল, সাদ ও হাফিজ।

এদের মধ্যে কেউ কেউ বিভিন্ন সময় আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতারের পর জামিনে পলাতক রয়েছে। আবার নতুন রিক্রুটও রয়েছে।

র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা জানান, হিজবুত তাহরীরের কারাবন্দি নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে সংগঠনের কিছু সদস্য। আর তাদের কাছে কারাগার থেকেও কিছু নির্দেশনা আসছে, যা সাংগঠনিক পর্যায়ে পৌঁছে দিচ্ছে বার্তাবাহক। বর্তমানে নাশকতা ও বিশৃংখলার নানা ছক তৈরি করেছে হিজবুত তাহরির।

আর এসব তারা করছে সরকারবিরোধীদের ইশারায়। এদের কাছ থেকে হিজবুত তাহরীর অর্থও পাচ্ছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে গোয়েন্দারা বেশ কিছু তথ্য পেয়েছে।

র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ গণমাধ্যমে বলেন, শুক্রবার নিষিদ্ধ হিজবুত তাহরীরের পূর্বঘোষিত অনলাইনে ভিডিও কনফারেন্সের কথা ছিল। তবে আইনশৃংখলা বাহিনীর কড়া নজরদারির কারণে তা ভেস্তে গেছে।

তিনি আরও বলেন, হিজবুত তাহরীরের জঙ্গিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। জানা গেছে, সরকার উৎখাতের টার্গেট নিয়ে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। আর এদের সঙ্গে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক শক্তির কানেকশন পাওয়া যাচ্ছে গোয়েন্দা অনুসন্ধানে। এদের তালিকাও করছে গোয়েন্দারা।

ষড়যন্ত্রের ফ্রন্টলাইনে যারা আছে তাদের ওপর রয়েছে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর অনলাইন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.