সিলেটটুডে ডেস্ক | ২১ জুন, ২০১৬
নবজাতক এক শিশু নিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) দুই পরিবারের মধ্যে কাড়াকাড়ি, বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি হয়েছে।
রোববার রাতে হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রোববার রাতে উজিরপুরের গুঠিয়া এলাকার বৈরকাঠি গ্রামের আলমগীর হোসেনের স্ত্রী হ্যাপি বেগম একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেন। ওই কক্ষে একই সময়ে বরগুনার আমতলী উপজেলার টিয়াখালী গ্রামের তাপস দাসের স্ত্রী চম্পা দাস একটি পুত্র সন্তান প্রসব করে। এরমধ্যে একজন মৃত সন্তান প্রসব করলে ওই ওয়ার্ডের কর্মরত আয়া আলেয়া, রওশনারা, হাসিনা ও কামরুন্নাহার জীবিত সন্তানকে চম্পার স্বজনদের কাছে তুলে দেন। এসময় হ্যাপির স্বজনরা জীবিত সন্তানটি তাদের দাবি করেন। এ নিয়ে দুই রোগীর স্বজন আর হাসপাতালের আয়া এবং নার্সদের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী বাকবিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে মারমুখি পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং চম্পা দাসের কাছে নবজাতকটিকে তুলে দেয়।
হ্যাপীর স্বামী আলমগীর হোসেনের অভিযোগ করেন, মৃত নবজাতক বাচ্চাটি তাদের নয়। আয়া ও নার্সরা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাদের বাচ্চা পরিবর্তন করে মৃত বাচ্চাটি তাদের হাতে দিয়েছেন। প্রয়োজনে শিশুটির ডিএনএ পরীক্ষা করে প্রকৃত বাবা মায়ের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে চম্পাদাসের স্বামী তাপস দাস বলেন, আয়ারা জীবিত শিশুটিই তাদের কাছে তুলে দিয়েছেন। এই শিশুটি তাদের।
কর্তব্যরত নার্সরা জানান, জীবিত বাচ্চাটি হলো হিন্দু পরিবারের। আর মৃত বাচ্চটি হলো মুসলামান পরিবারের। এনিয়ে মুসলমান পরিবারের লোকজন হিন্দুপ রিবারের জীবিত বাচ্চাটি দাবি করলে পুলিশের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলা হয়েছে।
কোতয়ালী মডেল থানার এসআই আসাদুজ্জামান বলেন, নবজাতক শিশুর দাবি উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের পরামর্শে বাচ্চাটি চম্পা দাসকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।