সিলেটটুডে ডেস্ক | ২১ জুন, ২০১৬
'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত শরিফুল ওরফে মুকুল রানা যে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল তা তার শ্বশুর মোহাম্মদ আলী বিশ্বাস জানতেন না বলে দাবি করেছেন। জানলে এ জঙ্গির সঙ্গে বিয়ে দিতেন না বলে জানান তিনি।
যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের জগন্নাথপুর বিশ্বাসপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর দাবি, মেয়ে মহুয়া আক্তার রিমির সাথে মুকুলের বিয়ের প্রস্তাব এসেছিল এক ঘটকের মাধ্যমে। ছেলেটি উচ্চশিক্ষিত, ঢাকায় বড় কোম্পানীতে চাকরিও করে ভাল বেতনে, ঘটক এমন তথ্য দেওয়ায় মুকুলের সঙ্গে মেয়ের বিয়েতে রাজি হন তারা।
মেয়েজামাই 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হবার খবর পেয়ে তিনি বলেন, 'তখন যদি মুকুলের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা জানতাম তাহলে কোনভাবেই এ বিয়েতে মত দিতাম না। বিয়ের চারদিন পর মেয়ে স্বামীহারা হবে, কোনও বাবা কি সেটা চায়?'
এদিকে রিমির ভাই আমির হোসেন জানান, চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারিতে মুকুলের সঙ্গে বিয়ে হয় তার বোন রিমির। এরপর মুকুল ২৩ ফেব্রুয়ারি নিজবাড়ি সাতক্ষীরা যাবার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। কিন্তু এরপর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে জানতে পারেন ওইদিন সন্ধ্যায় বসুন্দিয়া থেকে ডিবি পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি কয়েকদিন পর যশোর কোতয়ালি থানায় জিডি করেন। সংবাদ সূত্র, সমকাল।
যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন জানান, শরিফুল আর মুকুল রানা একই ব্যক্তি কি না তা তিনি জানেন না। তবে বসুন্দিয়া থেকে সাতক্ষীরা যাবার উদ্দেশ্যে বের হয়ে মুকুল নামে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছে মর্মে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি কোতয়ালি থানায় একটি জিডি হয়েছে। আমির হোসেন নামে একজন জিডির বাদি।
মোহাম্মদ বিশ্বাস ও তার পরিবারের লোকজন রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে কিনা তা জানা যায়নি। তার বড় ছেলে মুজিবর রহমান বিশ্বাস পেশায় কবিরাজ। মুকুল নিখোঁজ হবার পর তার খোঁজে ঢাকায় গিয়ে আটক হন তিনিও। এখনও তিনি কারাবন্দি। ছোট ছেলে আমির হোসেন কৃষিকাজ করেন। আর মেয়ে মহুয়া বিয়ের পর থেকে বাড়িতেই নিঃসঙ্গ দিন কাটাচ্ছে।
তবে মোহাম্মদ বিশ্বাসের পরিবারের কারও রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য জানা না গেলেও তাদের স্বজনদের বেশিরভাগই জামায়াত-শিবিরের রাজনীতিতে এখনও সক্রিয়।
মোহম্মদ বিশ্বাসের ভাইপো মাহবুবুর বিশ্বাস জামায়াতের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা। জেলও খেটেছেন একাধিকবার। মাহবুবারের অন্যান্য ভাইয়েরাও একই দলের রাজনীতি কজরেন। মোহাম্মদ বিশ্বাসের পরিবারের উপর রয়েছে এদের প্রভাব।
বসুন্দিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম খান রাসেল জানান, তার ইউনিয়নের একটা অংশ জুড়ে জামায়াত-শিবির জঙ্গি ঘাঁটি হিসাবে ব্যবহার করছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আরো তৎপর হলে মুকুল রানার মত আরো দুর্ধর্ষ জঙ্গির সন্ধান মিলবে।