সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৫ জুন, ২০১৬
শুক্রবার মধ্যরাতে শ্বশুর বাড়ি থেকে এসপি বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়ার পর শনিবার বিকেলে বাসায় ফিরেছেন তিনি।
বাবুল আক্তারের পরিবারের সদস্যরা তার বাসায় ফেরার খবর নিশ্চিত করেছেন।
বাসায় ফিরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তাকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। যারা তদন্ত করছেন, তারা বিভিন্ন বিষয়ে আমার সাথে আলোচনা করেছেন।”
বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তোলে নিয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে কিছু জানানো না হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল শনিবার সকালে বলেছিলেন, “কয়েকজন আসামির সামনে মুখোমুখি করে বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”
এদিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়া হয়নি। জানা গেছে প্রেস ব্রিফিং করে বিস্তারিত জানানো হবে।
মিতু হত্যায় সরাসরি জড়িত সন্দেহে আবু মুছা (৪৫) ও এহতেশামুল হক ভোলা (৩৮) নামে দুই ব্যক্তিকে ইতোমধ্যেই আটক করেছে পুলিশের একটি ইউনিট। এরা দু’জনই এসপি বাবুল আক্তারের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন। ধারণা করা হচ্ছে, তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভাড়াটে খুনি হিসেবে তারা মিতুকে হত্যা করেছে অথবা সাহায্য করেছে। তাছাড়া মিতু হত্যায় যে অস্ত্রটি ব্যবহার হয়েছে, সেটি নাকি বাবুল আক্তরের সোর্স বিভিন্ন সময় ভাড়া দিতো।
প্রসঙ্গত, গত ৫ জুন নগরীর জিইসি’র মোড় এলাকায় ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাত ও গুলিতে খুন হন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনার পরদিন পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তার বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে গোয়েন্দা পুলিশ, র্যাব, সিআইডি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিআই)। তবে মামলার মূল তদন্তে আছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তবে সবগুলো সংস্থা মিলে এখন পর্যন্ত এ ঘটনার কোন রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি তারা।