সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৯ জুন, ২০১৬
১ জুলাই থেকে টানা নয় দিন ছুটির ফাঁদে পড়ছে দেশ। ঈদের ছুটিতে দেশে যেন কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় সেজন্য মাঠ প্রশাসনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ। বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিয়ে এ নির্দেশনা দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সে আরও যোগ দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ। এসময় ঈদের ছুটিতে প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিবের সঙ্গে বিভাগীয় কমিশনারদের ভিডিও কনফারেন্সে বিভাগীয় কমিশনারদের উদ্দেশে মুখ্য সচিব বলেন, নয় দিনের লম্বা ছুটিতে জেলা প্রশাসকদের সতর্ক রাখবেন। কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে ডিসিরা যেন সজাগ থাকেন। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মুখ্য সচিব বলেন, নয় দিনের ছুটি। ছুটি যতো লম্বা আপনাদের দায়িত্ব ততো বেশি।
ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম বলেন, নয় দিন সরকারি ছুটিতে নিরাপত্তার বিষয়টি বড় আকারে দেখা গেছে। ব্যাংকের ভল্টে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি ঈদের ছুটিতে সাধারণ মানুষ যেন জরুরি চাহিদাগুলো মেটাতে পারেন সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলো দেখতে ডিসিদের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য বলেন সুরাইয়া বেগম। ডিসি অফিস সবসময় খোলা থাকবে জানিয়ে তিনি বিভাগীয় কমিশনারদের উদ্দেশ্যে বলেন, এরপরেও যেন এক্সট্রা কেয়ার নেওয়া হয়, এটাই মেসেজ।
ব্যাংকিং বিভাগ থেকে ঈদের ছুটিতে ব্যাংকগুলোর নিরাপত্তার বিষয়ে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে জানিয়ে অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ ব্যাংকিং খাতের নিরাপত্তায় বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতা চান।
আট বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিসভা কক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এবং আট বিভাগীয় কমিশনাররা নিজ নিজ চুক্তিতে সই করেন।
এসময় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিব বলেন, আগে লিগ্যাল কোনো বাইন্ডিং ছিল না। চুক্তির ফলে পারস্পরিকভাবে দায়বদ্ধতার মধ্যে চলে এসেছি। প্রথমবারের মতো মাঠ পর্যায়ের কাজকে টার্গেটের মধ্যে আনা হয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। শপথ ভঙ্গ হলে তারা জনগণের কাছে দায়ী থাকেন, আমাদের সে রকম সিস্টেম নেই। এখন আমরা পারস্পারিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়ে নিজেদেরকে বাউন্ড করলাম যে, উই আর কমিটেড টু পারফর্ম আওয়ার ডিউটিজ। এপিএতে যে টার্গেটগুলো দেওয়া আছে তা যেন সবাই শতভাগ অর্জন করতে পারি সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
বিভাগীয় কমিশনারদের পক্ষে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ চুক্তির ফলে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, তথ্যপ্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে। একইসঙ্গে সেবাদাতাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং উদ্ভাবন চর্চার মাধ্যমে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত হবে।