Sylhet Today 24 PRINT

‘আমরা তো সাতে-পাঁচে ছিলাম না, তবুও আমার মাকে কেনো মরতে হলো’

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০৭ জুলাই, ২০১৬

মুসলমানদের ঘরে ঈদের খাবার। ভৌমিক বাড়ির কর্ত্রী ঝর্ণা রানী ভৌমিকও সেমাই রেঁধেছেন। রুটি বানানোর জন্য ময়দা মাখাচ্ছিলেন। এমন সময় চারদিকে গোলাগুলি। তখনই একটা প্রয়োজনে রান্নাঘর থেকে শোয়ার ঘরে যান ঝর্ণা। এ সময়ই জানালা দিয়ে একটা গুলি এসে ঠিক মাথায় লাগে তাঁর। ঘরের ভেতরেই পড়ে যান তিনি। মেঝে ভেসে যায় রক্তে। পরিবারের সদস্যদের তাকিয়ে তাকিয়ে তাঁর চলে যাওয়া ​দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না।

ঝর্ণার বড় ছেলে বাসুদেব ভৌমিক ঢাকার একটি কলেজে শিক্ষকতা করেন। ছুটিতে বাড়ি এসেছেন। রান্নাঘরে মায়ের রান্না করা সেমাই আর ময়দার গোলা দেখিয়ে বাসুদেব বলছিলেন, ‘কেমন করে বিশ্বাস করব মা নেই। মায়ের ঘরটা ভেসে গেল মায়েরই রক্তে।’ বাসুদেব চোখ মোছেন আর একে-ওকে মায়ের হাতে গড়া শেষ খাবারটা দেখান।

ঝর্ণার স্বামীর নাম গৌরাঙ্গ ভৌমিক। গৌরাঙ্গর ভাই উপেন্দ্র ভৌমিক কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘রুটি বেলবে বলে আটা মাখছে। পোলায় লুঙ্গি চাইছিল। ঝর্ণা রান্নাঘর থেকে সেটা দিতে ঘরে যাওয়া মাত্রই জানালা দিয়া গুলি আইলো। আমরা সবাই তখন মেঝেতে শুইয়া আছিলাম। ক্যামনে কী হইয়া গেল।’

ঝর্ণার ছেলে বাসুদেব বলেন, ‘আমরা তো কারে সাতে-পাঁচে ছিলাম না। তবুও আমার মাকে এভাবে মরতে হলো।’

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া মাঠের অনতিদূরে সবুজবাগ মহল্লায় বাসুদেবদের বাড়ি। মায়ের মৃত্যুর পর সেই জানালা বন্ধ করে দিয়েছেন বাসুদেব। অন্ধকার করে তাঁর মায়ের কালচে রক্তের দিকে চেয়ে কাকে যেন সমানে দুষেই চলেছেন এই তরুণ কলেজশিক্ষক। বাড়িতে চলছে মাতম আর আহাজারি। পুলিশ লাশ নিয়ে গেছে ময়নাতদন্তের জন্য।

সৌজন্যে : প্রথম আলো

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.