Sylhet Today 24 PRINT

জঙ্গি আবিরের লাশ গ্রহণেও পরিবারের দ্বিধা

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০৯ জুলাই, ২০১৬

‘মার্চের ১ তারিখের পর থেকে তার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ নেই। এখন ও তো মরেই গেছে। ফেসবুক ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে জানতে পারি, সে শোলাকিয়ায় মারা গেছে। এখন বলতে চাই না ও আমাদের পরিবারের কেউ।’

শোলাকিয়ায় হামলা চালিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটানোর পরে নিজেও নিহত হওত আবির রহমান সম্পর্কে এমনটি বললেন তার বাবা সিরাজুল ইসলাম। এর আগে গুলশানে হত্যাযজ্ঞ ঘটনাও জঙ্গিদের লাশও এখনো পরিবার গ্রহণ করেনি।

৪ মাস থেকে ছেলে নিখোঁজ হলেও ঈদের আগের দিন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি। যদিও একটি সূত্র বলছে বিগত ৮ আস থেকেই নিখোঁজ ছিল আবির।
 
তবে নিখোঁজের এতদিন পরে জিডি করা সম্পর্কে সিরাজুল ইসলাম বলেন, "আমরা মনে করেছিলাম সে রাগ করে মালয়েশিয়া গেছে, সেখানে পড়তে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল, ভেবেছিলাম ফিরে আসবে। তার তবে গুলশান ঘটনার পর আমাদের সন্দেহ হয় তাই জিডি করেছি।"

আবিরের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আবির রহমানের বসবাস বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দেবীদ্বারে। চার ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট আবির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথে বিবিএ পড়তেন। এর আগে তিনি ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’ লেভেল সম্পন্ন করেন বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টিউটোরিয়ালে (বিআইটি)। তর বড় দুই ভাই অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। আবির ছোটবেলা থেকেই চুপচাপ ধরনের এবং খুব ধার্মিক।

জিডির ব্যাপারে ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল মোত্তাকিন জানিয়েছেন , " আবিরের পরিবার পক্ষ থেকে তার বাবা ৬ জুলাই নিখোঁজের জিডি করেন। জিডিতে ১ মার্চ থেকে সে নিখোঁজ উল্লেখ করা হয়"।

আবিরের মত আর কেউ এমন বিপথে যেন না যায় সেজন্য আহবান জানিয়েছেন তার পরিবার।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ঈদুল ফিতরের দিন কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতের প্রবেশ পথে বোমা বিস্ফোরণ করে দুই পুলিশ সদস্যকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে জঙ্গিরা। পরে পুলিশের সাথে গোলাগুলিতে নিহত হয় জঙ্গি দলের সদস্য আবির রহমান। দিনভর পাশ্ববর্তী এলাকার এক গৃহবধুর নিজ গৃহে গুলি লেগে মৃত্যু হয়। এই ঘট্নায় এখন পর্যন্ত ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

সূত্র: প্রথম আলো

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.