সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৮ জুলাই, ২০১৬
গুলশানে হামলার বিষয়ে গোয়েন্দাদের কাছে আগাম তথ্য ছিল বলে একদিন আগে দেওয়া বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবার বলেছেন , “তারা আশঙ্কা করছিল এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটতে পারে। কোথায় হবে, কখন হবে, কীভাবে হবে সেগুলো ছিল না।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল রোববার (১৭ জুলাই) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক’ এই মতবিনিময় সভায় বলেছিলেন, ‘গুলশান হামলার আগে এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য আমাদের কাছে ছিল। গোয়েন্দা তথ্য ছিল, গুলশান এলাকায় কিছু একটা ঘটতে পারে। এ কারণে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি ছিল। এর পেছনে কারা, কারা এদের মদদ দিয়েছে, তাও আমাদের জানা আছে।’ “আমাদের কাছে গোয়েন্দা রিপোর্ট ছিল যে একটা কিছু হতে যাচ্ছে, হতে পারে গুলশান এলাকায়। আমরা নানানভাবে তৈরি ছিলাম।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে গোয়েন্দা তথ্যের পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আগাম সতর্কতার ঘাটতি নিয়ে সমালোচনা উঠেছে। তাঁর ঐ বক্তব্য ও সমালোচনা উঠায় সোমবার বলেন, “তারা আশঙ্কা করছিল এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটতে পারে। কোথায় হবে, কখন হবে, কীভাবে হবে সেগুলো ছিল না।” রোববারের বক্তব্যের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তাঁর আগের বক্তব্যের ব্যাখা দেন তিনি।
আরও পড়ুন- খুন করে পালিয়ে যেতে চেয়েছিলো জঙ্গিরা, বাধা হয়ে দাঁড়ান এক এসআই
“এ ধরনের গোয়েন্দা তথ্য কিন্তু রোজই আসে। এ রকম হতে পারে, (হামলা) হবেই এ ধরনের তথ্য কিন্তু আসেনি।”
তবে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার কারণেই পুলিশ সতর্ক ছিল দাবি করে আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ সেখানে চলে গিয়েছিল। পুলিশ সব জায়গায় অবস্থান করছিল।”
এদিকে, গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরায় জঙ্গিরা হেঁটে এক এক করে ঢুকেছিল বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ওই সময়কার একটি সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে তা দেখা গেছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মন্ত্রী।
গত ১ জুলাই গুলশানের এই ক্যাফেতে জঙ্গিরা একটি মাইক্রোবাসে করে ঢুকে অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করেছিল বলে ভবনের এক নিরাপত্তাকর্মী জানিয়েছিলেন।
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা ভিডিওতে যা দেখেছি, এ সমস্ত যুবক দুজন-একজন করে হাঁটতে হাঁটতে (গুলশানের বেকারির) ভেতরে ঢুকেছে। ভিডিওতে এ লোকগুলোকে রাস্তায় হাঁটতে দেখেছি।
“আশপাশের ক্যামেরাগুলো একত্র করে যা দেখছি, এরা গাড়ি ব্যবহার করেনি। এরা হেঁটে হেঁটে আসছে, এরা দুজন একজন করে আসছে।”
কূটনীতিক পাড়া গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কে বিদেশিদের কাছে জনপ্রিয় ওই ক্যাফেতে জঙ্গিরা ঢুকে অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে। তাদের মোকাবেলায় গিয়ে নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। এরপর জঙ্গিরা ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে হত্যা করে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর কমান্ডো অভিযান চালিয়ে ওই রেস্তোরাঁর নিয়ন্ত্রণ নেয় সশস্ত্রবাহিনী। ওই অভিযানে ছয় হামলাকারী নিহত এবং একজনকে আটক করা হয় বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। জিম্মিদের মধ্যে ৯ জন ইতালিয়, ৭ জন জাপানি, ৩ জন বাংলাদেশি এবং ১ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন।