সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৪ জুলাই, ২০১৬
মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড আয়োজিত ‘জঙ্গি প্রতিরোধে মাদরাসা শিক্ষকদের করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা জঙ্গিবাদ নির্মূলে প্রয়োজনে তলোয়ার নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
রোববার (২৪ জুলাই) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মাদরসা শিক্ষাবোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক একেএম ছায়েফ উল্লাহর সভাপতিত্বে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সারা দেশের প্রায় ১ হাজার ২০০ প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্য থেকে ৮ জন আঞ্চলিক প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেন।
সিলেট অঞ্চলের প্রতিনিধি কমলনাথ কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ একেএম মনোয়ার আলী শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা দেয়া হোক; তলোয়ার নিয়ে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বো। জঙ্গিবাদ নির্মূল করবো।’
তিনি বলেন, ‘নৈতিক এবং ধর্মীয় শিক্ষা বাড়াতে হবে। এর জন্য এবতেদায়ী (প্রাথমিক) মাদরাসার সংখ্যা বৃদ্ধি করা জরুরি।
স্বাগত বক্তব্যে মাদরাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, ‘নেতৃত্বের পাশপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেন সঠিক জ্ঞান অর্জন করার মধ্য দিয়ে, ভুল বিষয়গুলো বুঝতে পারে এবং ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বিরত থাকে।’
শিক্ষকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সবার ঐক্যবদ্ধ শক্তি দিয়ে এদেশেই জঙ্গিবাদের নৃশংসতাকে দাফন করতে পারবো, ইনশাল্লাহ।’
ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রতিনিধি মোমেনশাহী ডিএস কমিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. ইদ্রিস খান বলেন, ‘মাদরসার ছাত্ররা কুরআন-হাদিস বুঝে, সে কারণে তারা বিপথগামী হয়নি।’ এ পর্যন্ত কোনো নৃশংসতায় আলাদাভাবে মাদরাসার কোনো ছাত্র-শিক্ষককে পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি। এবার বাংলার মাটিতে জঙ্গিদের দাফন করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকা অঞ্চলের নেছারিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন বলেন, ‘জঙ্গিবাদ নিয়ে বই প্রণয়ন করা দরকার। যেখানে জিহাদের পরিপূর্ণ আলোচনা থাকবে।’ যে সব শিক্ষক জঙ্গিবাদের মতো জঘণ্য কাজে জড়িয়ে পড়বে তাদের বহিষ্কারের দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘নৈতিক শিক্ষার প্রচারণা বাড়াতে হবে। এর জন্য টিভিতে বিনোদনের অনুষ্ঠান কমিয়ে শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম বাড়ানো জরুরি।’
শিক্ষক প্রতিনিধিদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন- রাজশাহী অঞ্চলের মদীনাতুল উলুম কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মোকাদ্দাসুল ইসলাম, খুলনা অঞ্চলের খুলনা আরিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আবুল খায়ের মুহাম্মদ জাকারিয়া, বরিশাল অঞ্চলের বায়তুল হুদা কামিল মাদরাসার সুপার ফারুক আহমেদ হাওলাদার, ফেনী অঞ্চলের ছাগলনাইয়া ফাযিল মাদরাসা অধ্যক্ষ হোসেন আহমেদ।
এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের প্রতিষ্ঠানের নেতা আপনারা। জঙ্গিবাদ নির্মূলে আপনাদের দায়িত্ব নিতে হবে। সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করবেন। শিক্ষাকে আনন্দময় করতে হবে। শিক্ষার সুন্দর পরিবশে এবং শিক্ষাগ্রহণ আনন্দময় হলে শিক্ষার্থীরা ভিন্ন পথে যাবে না।’
জঙ্গিবাদ বিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২৭ জুলাই মাদরসা (ফাজিল-কামিল পর্যায়) কর্তৃপক্ষ এবং ৩০ জুলাই টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ১৭ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কয়েকটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের প্রতিনিধি, ২১ জুলাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধীভুক্ত কলেজের প্রতিনিধি, ২৩ জুলাই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সারা দেশে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং সারা দেশে জঙ্গিবাদ বিরোধী বার্তা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে বলে মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।