নিউজ ডেস্ক | ২৪ মার্চ, ২০১৫
সরকারের বিরুদ্ধে স্যাবোটাজ রুখতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সরকারবিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করে তাদের ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদফতর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানকে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়ত্ত সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনের কাছেও।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত চিঠি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়েছে, ৬ জানুয়ারি থেকে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট দেশব্যাপী অবরোধ ও হরতালের নামে যানবাহনে পেট্রল বোমা ছুড়ে সাধারণ মানুষ হত্যা, গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ, রেললাইন উৎপাটন, ট্রেনে ভাংচুরসহ ধ্বংসাত্মক ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
২০ দলীয় জোটের মূল লক্ষ্য এখন বিদ্যুৎ খাত ঘিরে। তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন, সরবরাহ ও বিতরণকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে খাতটিতে সরকারের সাফল্য ম্লান করে দেয়ার পাঁয়তারা করছে। বিদ্যুৎ খাতে চাকরিরত সরকারবিরোধী মনোভাবাপন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডে তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছেন।
আরেকটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, আন্দোলনের নামে ২০ দলীয় জোট যানবাহনে পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করে সাধারণ মানুষকে হত্যা, অগ্নিদগ্ধ করাসহ ধ্বংসাত্মক ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে দেশে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
সন্ত্রাসীরা দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে সাধারণ জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। দেশব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে তারা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো চিঠির অনুলিপি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা, গ্রামীণ ব্যাংক, সোনালী, রূপালী, অগ্রণী, জনতা, বিডিবিএল, আইসিবি, কৃষি, রাকাব, বেসিক, হাউজ বিল্ডিং ফিন্যান্স করপোরেশন, কমার্স, প্রবাসী কল্যাণ কর্মসংস্থান ব্যাংকের কাছেও চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।