সিলেটটুডে ডেস্ক | ৩১ জুলাই, ২০১৬
ভারতের ত্রিপুরার আগরতলার সাথে আখাউড়াকে যুক্ত করতে বাংলাদেশ-ভারত নতুন রেলপথ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। চূড়ান্ত হওয়ার ছয় বছর পর বাংলাদেশের রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক ও ভারতের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু রোববার এ রেলপথের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০১০ সালের জানুয়ারিতে ভারত সফরকালে এ প্রকল্প চূড়ান্ত করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের জুনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরকালেও এ প্রকল্প নিয়ে দুদেশের মধ্যে আলোচনা হয়।
আগরতলা-আখাউড়া রেলপথের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের পাশাপাশি রবিবার আগরতলা-দিল্লি যাত্রীবাহী ট্রেন ‘ত্রিপুরা সুন্দরী এক্সপ্রেস’ উদ্বোধন হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারতীয় রেলমন্ত্রী বলেন, আগরতলা-আখাউড়া আন্তর্জাতিক রেলপথ উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গতি আনবে। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর এ রেলপথ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যের প্রবেশদ্বার হয়ে ওঠবে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ভারতের রেলমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে ভারতের রেলপথের সংযোগ সাধনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর এশিয়ার সেরা বন্দর। আমরা সাবরুমের মধ্য দিয়ে ভারতের রেলপথকে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত করতে চাই।
রেলপথ প্রকল্পের পুরো খরচ ভারত বহন করছে। ৯৬৮ কোটি রুপি ব্যয়ে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ রেলপথ নির্মাণ করা হবে। ২০১২-২০১৩ অর্থবছরের জন্য ভারতের রেলওয়ে বাজেটে এ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। এ রেলপথ ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের অংশ, যা বাংলাদেশ হয়ে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর সাথে কলকাতার যোগাযোগ সহজতর করবে। বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের চারটি রেলপথ রয়েছে।
রেল প্রকল্পের ভারতীয় অংশের কাজ বাস্তবায়ন করবে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (ইরকন)। প্রতিষ্ঠানটিকে বাংলাদেশ অংশের কাজ বাস্তবায়নে কারিগরি উপদেষ্টা হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।
আইএএনএসকে ত্রিপুরার পরিবহন মন্ত্রী মানিক সরকার বলেন, ত্রিপুরা সরকারের দেন দরবার এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মধ্যস্থতায় উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রণালয় আগরতলা-আখাউড়া রেল প্রকল্পের ত্রিপুরা অংশের জন্য ৫৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে রাজি হয়েছে। এ প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশের কাজ বাস্তবায়নে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অর্থ সরবরাহ করবে। তার মতে, এ প্রকল্প উত্তর-পূর্ব ভারত ও বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে গতি সঞ্চার করবে।
ভারতের নর্থ-ইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়েকে (এনএফআর) এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন তদারকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তারা মিলে দুই অংশের সংযোগ ও কারিগরি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করেছেন। এনএফআর মহাব্যবস্থাপক এইচকে জাগ্গি জানান, ভারত সরকার পুরো প্রকল্পের খরচ বহনের ঘোষণা দিয়েছে। এ রেলপথের ৫ কিলোমিটার ভারতে এবং বাকি অংশ বাংলাদেশে পড়েছে। কৃষি জমি ও বসত ভিটা বাঁচাতে ভারতীয় অংশের কয়েকটি জায়গায় এলিভেটেড ট্র্যাক নির্মাণ করা হবে।
আগরতলা-আখাউড়া রেলপথ চালু হলে কলকাতা ও আগরতলার দূরত্ব অর্ধেকের বেশি কমে ৫১৪ কিলোমিটারে নেমে আসবে। বর্তমানে এ দুই শহরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে গুয়াহাটি-নতুন জলপাইগুঁড়ি-কিষাণগঞ্জ (বিহার)-মালদা হয়ে ১ হাজার ৬১৩ কিলোমিটারের পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে হয়।
গুয়াহাটি থেকে বিদ্যমান রেলপথ মধ্য আসামের লুমডিং এবং দক্ষিণ আসাম হয়ে আগরতলা, মণিপুর ও মিজোরাম রাজ্যকে ভারতের বাকি অংশগুলোর সাথে যুক্ত করেছে। গুয়াহাটি-শিলচর নামে এ রেলপথ বরাক উপত্যকা বলে পরিচিত দক্ষিণ আসামের কাছাড়, করিমগঞ্জ, হালিয়াকান্দি ও ডিমা হাসাও জেলা এবং ত্রিপুরা, মণিপুর ও মিজোরামের যোগাযোগের একমাত্র অবলম্বন। এ অঞ্চলগুলো খাদ্যশস্য, সার, জ্বালানি পণ্য, নির্মাণ সামগ্রী ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য আনা-নেয়া ও যাতায়াতের জন্য রেলপথটির ওপর নির্ভরশীল।