Sylhet Today 24 PRINT

জঙ্গি তামিম দেশেই আছে, ধারনা গোয়েন্দাদের

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০২ আগস্ট, ২০১৬

গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার মূল হোতা কানাডা প্রবাসী জঙ্গি তামিম চৌধুরী বাংলাদেশেই আছেন বলে ধারণা করছেন গোয়েন্দারা। কল্যাণপুরে গত ২৬ জুলাইয়ের অভিযানের আগেও তামিম দেশে ছিলেন বলে দাবি করেছেন ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

আইএসের কথিত সাময়িকী দাবিক-এর চতুর্দশ সংখ্যায় বাংলাদেশে তাদের নেতা হিসেবে যে আবু ইব্রাহিম আল হানিফের  সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছিল, সেই ইব্রাহিম আসলে তামিম বলে ধারণা করছেন গোয়েন্দারা।

সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর করা নিখোঁজদের তালিকায় থাকা তামিম ভারতে অবস্থান করছেন বলে গত সপ্তাহে খবর দিয়েছিল টাইমস অফ ইন্ডিয়া।

মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে আইজিপির সঙ্গে থাকা মনিরুল সাংবাদিকদের বলেন, “কল্যাণপুরের ঘটনার আগেও বাংলাদেশে তামিমের অবস্থান জানা যায়।”

তামিম দেশ ত্যাগ করেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সে দেশত্যাগ করেছে, এমন তথ্য আমাদের (গোয়েন্দা) কাছে নেই।”

তখন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি কেন- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, তখন তার জঙ্গি সম্পৃক্ততার বিষয়টি জানা যায়নি। তদন্তে ২০১৫ সালে তার নাম বেরিয়ে আসে।

অবশ্য আইজিপি বলেন, “সে (তামিম) দেশে থাকতে পারে, দেশের বাইরেও থাকতে পারে। গুলশান ঘটনার আগে দেশেই ছিল।” তিনি জানান, তামিমের সঙ্গে জেএমবির ‘নতুন ধারার’ একটি গ্রুপ রয়েছে এবং তাদের পুলিশ মোটামুটি চিহ্নিত করতে পেরেছে। তামিমকে গ্রেপ্তার করা গেলে তার উপরে কে বা কারা আছে- তা জানা সম্ভব হবে।

গুলশান হামলাকারীদের তামিমই ‘রিক্রুট’ করেছিল দাবি করে শহীদুল হক বলেন, “ঘটনার আগে সে তাদের ব্রিফিং দিয়েছে, তাদেরকে পাঠিয়েছে এবং ঘটনার সময় তাদেরকে এগিয়ে দিয়েছে, আমরা সে তথ্য পেয়েছি।”

তিন সন্তানের জনক তামিম (৩০) সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের বড়গ্রামের প্রয়াত আব্দুল মজিদ চৌধুরীর নাতি। মজিদ চৌধুরী একাত্তরে শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান।

তামিমের বাবা শফি আহমদ জাহাজে চাকরি করতেন। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে তিনি সপরিবারে কানাডায় পাড়ি জমান। তামিমের জন্মও কানাডায়।

গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার পর পুলিশের অভিযানে কল্যাণপুরে যে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান মেলে, সেখান থেকে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার রাকিবুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদে তামিমের বিষয়ে তথ্য মেলে বলে জানান গোয়েন্দারা।

তামিমকে ধরিয়ে দিতে ২০ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা সংবাদ সম্মেলনে দেন আইজিপি শহীদুল হক। একইসঙ্গে সেনাবাহিনীতে কয়েক বছর আগে অভ্যুত্থানচেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে বরখাস্ত মেজর সৈয়দ মো. জিয়াউল হকের তথ্যের জন্যও ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।

আইজিপি বলেন, “গুলশান, শোলাকিয়া ও কল্যাণপুরের তিনটি ঘটনায় মাস্টারমাইন্ড হিসাবে তামিম চৌধুরী ও বহিষ্কৃত মেজর জিয়াকে চিহ্নিত করেছি আমরা।” জিয়া কোথায় আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “জিয়াও বাংলাদেশে আছে।”

গত দুই বছরে বাংলাদেশে একের পর এক ব্লগার, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, লেখক-প্রকাশক, বিদেশি নাগরিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু হত্যার প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি আবারও জিয়ার নাম আলোচনায় আসে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.