সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৮ আগস্ট, ২০১৬
৩ দিন নিখোঁজ থাকার পর ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী আফসানা ফেরদৌস (২৪) এর লাশ পাওয়া যাওয়ার ঘটনায় বুধবার (১৭ আগস্ট) শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও প্রগতিশীল সংগঠনসমূহ। বক্তারা আফসানা হত্যার জন্য তেজগাঁও কলেজ ছাত্রলীগকে দায়ী করেছেন।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লাকী আক্তারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জি.এম. জিলানী শুভ সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবী জানান বক্তারা।
বিক্ষোভ সমাবেশে ডাকসুর সাবেক ভিপি, বাংলাদশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, “ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী আফসানা ফেরদৌসের হত্যাকাণ্ড ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হচ্ছে। হত্যার চারদিন পরেও পুলিশ রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। বরং আফসানা হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।“
সেলিম বলেন, “আফসানা হত্যাকাণ্ড কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটা রাষ্ট্রের ধারাবাহিক বিচারহীন খুন ধর্ষণের অংশ। আমি অবাক হই যে কাফরুল থানার ওসি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার আগেই কিভাবে মন্তব্য করেন যে এটা হত্যাকাণ্ড নয় আত্মহত্যা? তিনি কাকে বাঁচাতে চাইছেন? আর আমি মনে করি ওসির এই বক্তব্য তদন্ত প্রতিবেদনকে প্রভাবিত করবে। আমরা ওসির কাছে জানতে চাই তাকে কেনো চাকুরী দেয়া হয়েছে? সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে নাকি খুনি ধর্ষকদেরকে রক্ষা করতে?”
তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী, আমরা শুনতে পেয়েছি যে আফসানার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে তেজগাঁও কলেজের ছাত্রলীগের ছেলেরা। যাতে আফসানার পরিবার তাদের মেয়ে হত্যার বিচার না দাবী করে। প্রধানমন্ত্রী, আপনি আপনার ছাত্রলীগ থেকে খুনি ধর্ষকদেরকে খুঁজে বের করুন, কারণ খুনি ধর্ষকদেরকে নিয়ে আপনি ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে পারবেন না।”
ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি লাকী আক্তার বলেন, “আমরা রামপাল নিয়ে কথা বললেই বলা হয় আমরা দেশের উন্নয়নের বিরোধী, আমরা তনু হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বললেই বলা হয় আমরা সেনাবাহিনীর ভাবমুর্তি নষ্ট করছি। কিন্তু আসল কথা হচ্ছে আমরা যেইসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করি, বিচার দাবী করি সেইসব বিচারে করলে থলের বেড়াল বেড়িয়ে যাবে। আমার বোন আফসানাকে হত্যা করা হয়েছে। আফসানার পরিবারসহ সবাই এই হত্যাকাণ্ডের জন্য তেজগাঁও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান রবিনকে সন্দেহ করছিলো। আজকে এই সমাবেশে আসার সময় তেজগাঁও থানা ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীদের উপর হামলা চালায় তেজগাঁও থানা ছাত্রলীগের ছেলেরা। তারা এই হামলার মাধ্যমে প্রমাণ করে দিলো যে আফসানা হত্যাকাণ্ডে তেজগাঁও কলেজ ছাত্রলীগ জড়িত। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই, অন্যথায় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সারা দেশে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।”
সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নিহত আফসানার মামা ড. তৌফিক এলাহি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মানবেন্দ্র দেব, সাবেক ছাত্রনেতা আকরামুল হক, লেখক ইমতিয়াজ আহমেদ বাবু, শ্রমিক নেতা হযরত আলী, সাংবাদিক সাকিল অরণ্য, শিক্ষক অভিনু কিবরিয়া ইসলাম, মোহনগঞ্জ ভূমি অধিকার রক্ষা আন্দোলনের নেতা জাকিয়া, আদীবাসী নেতা হরেন সিং, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি লিটন নন্দী, ঢাকা মহানগর সভাপতি অনিক রায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি আল আমিন, কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক সিয়াম সারোয়ার জামিল প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।
সমাবেশ থেকে আফসানা ফেরদৌস-এর খুনীদের গ্রেপ্তার ও তেজগাঁও কলেজের ছাত্র ইউনিয়ন নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আগামী ১৯ আগস্ট দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও ২২ আগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচির ঘোষণা করেছে ছাত্র ইউনিয়ন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করবে সংগঠনটি।