Sylhet Today 24 PRINT

অভিজিৎ হত্যা : ১৮ মাস পর এলো এফবিআইর ডিএনএ প্রতিবেদন

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২৫ আগস্ট, ২০১৬

বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যার পর পুলিশের পক্ষ থেকে ১৩ ধরনের আলামতের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছিল। প্রায় ১৮ মাস পর এফবিআইর কাছ থেকে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পেয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। প্রত্যেকটি আলামতের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।

আলামতে কতজনের আঙুলের ছাপ পাওয়া গেছে, তার উল্লেখ আছে। এখন সন্দেহভাজন আসামিদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে আলামতের ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে। এরই মধ্যে দ্বিতীয় দফায় আরও আট সন্দেহভাজন ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই সে প্রতিবেদন পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী তদন্তকারী সংস্থা। দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিজিৎ হত্যা মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবির ডিসি (দক্ষিণ) মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা যে আলামত যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছিল, তার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে।

গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকে নিয়ে বাংলা একাডেমির একুশে বইমেলা থেকে বের হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় তাদের ওপর হামলা করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অভিজিৎ। ঘটনাস্থল থেকে দুটি রক্তমাখা চাপাতি ও একটি ব্যাগ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক অভিজিৎ হত্যার পর এফবিআইর একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসে। তারা কয়েক দফা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠক করেন। এফবিআইর প্রতিনিধি দলটি ঘটনাস্থলও ঘুরে দেখে। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআই ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ১৩ ধরনের আলামত পাঠানো হয়। আলামতের মধ্যে ছিল- অব্যবহৃত সিরিঞ্জ, তুলা, চুল, কিছু ওষুধ, পুরনো পত্রিকা, চাপাতি, ব্যাগ, একজোড়া প্যান্ট, টিস্যু ও অ্যান্টিসেপটিক।

মামলার তদন্ত সূত্র জানায়, অভিজিৎকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। হত্যার পর ঘটনাস্থল থেকে দুটি রক্তমাখা চাপাতি ও একটি ব্যাগ উদ্ধার করে পুলিশ। একটি চাপাতিতে রক্তের সঙ্গে লম্বা চুল আটকে ছিল। এ ছাড়া জঙ্গিদের ফেলে যাওয়া কালো রঙের ব্যাগে 'রোটেক্স' ইনজেকশনও পাওয়া যায়। এই ইনজেকশন যে কোনো কাটা ও জখমের জায়গায় রক্তক্ষরণ ত্বরান্বিত করে।

সূত্র আরও জানায়, ১৩ ধরনের আলামতের যে ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়া গেছে, সেখানে অনেকের আঙুলের ছাপ পাওয়া গেছে। অনেক আলামতে একাধিক ব্যক্তির ছাপ পাওয়া যায়। বিশেষ করে চাপাতিতে অনেক ব্যক্তির আঙুলের ছাপ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, জঙ্গিদের ফেলে যাওয়া চাপাতিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত উৎসুক একাধিক ব্যক্তি বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আঙুলের ছাপ থাকতে পারে। হয়তে ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা চাপাতি খালি হাতে ধরা হয়েছিল।

চলতি সপ্তাহে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিজিতের ছয় 'খুনির' ভিডিও প্রকাশ করা হয়। কীভাবে পরিকল্পনাকারীরা অভিজিৎকে অনুসরণ করছিল, তা সিসিটিভির ফুটেজ থেকে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার দিন 'খুনিরা' অভিজিৎকে অনুসরণ করে। অভিজিৎ হত্যা পরিকল্পনা ও কিলিং মিশনে অন্তত ১০ জন জড়িত ছিল। এর মধ্যে রয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) নেতা মেজর (বরখাস্ত) জিয়াউল হক, সেলিম, মুকুল ও শরীফ। শরিফ এরই মধ্যে পুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' মারা গেছে।

সূত্র : সমকাল

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.