সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৫ আগস্ট, ২০১৬
চাপের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের এমন দাবির পর পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের জন্যে করা আবেদনপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে। এর আগে তাঁর পদত্যাগপত্রটিও রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছিল। উভয় পত্রের সিদ্ধান্ত দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
বুধবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, ‘আগে বাবুল আক্তার অব্যাহতি চেয়েছিলেন, এখন তিনি যোগদান করতে চাচ্ছেন। আমরা সব আবেদনই নিয়মানুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। সিদ্ধান্ত আসলে ব্যবস্থা নেব।’
জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট বাবুল আক্তার তাঁর কর্মস্থল পুলিশ সদর দপ্তরে গিয়ে লিখিতভাবে কাজে যোগ দিতে চান। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাঁকে জানিয়ে দেন, তাঁকে আর কাজে যোগদান করতে দেওয়া সম্ভব নয়। পরদিন ৪ আগস্ট বাবুল পুলিশ সদর দপ্তরে ডিআইজি (প্রশাসন) বরাবর লিখিতভাবে যোগদানপত্র জমা দেন। এতে তিনি বলেন, স্ত্রী খুন হওয়ার পর দুই সন্তানের দেখাশোনার জন্য কর্মকর্তাদের পরামর্শমতো তিনি শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে দুই সন্তানকে নিয়মিত চিকিৎসকের কাছেও নেওয়া হচ্ছে। অনুপস্থিতির সময়টা ছুটি হিসেবে নিয়ে তাঁকে কাজে যোগ দেওয়ার সুযোগ করে দিতে অনুরোধ করেন বাবুল।
আবেদনপত্রে বাবুল আক্তার আরো বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি, বাধ্য হয়েছেন। তবে পুলিশের মহাপরিদর্শক(আইজিপি) বলেন, বাধ্য করা হয়নি, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।
একজন পুলিশ সুপারকে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আইজিপি একে এম শহীদুল হক বলেন, ‘বাধ্য করার প্রশ্নই ওঠে না, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। অনেক দিন অপেক্ষা করে সেই পদত্যাগপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত ৫ জুন সকালে চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে গত ২৪ জুন গভীর রাতে খিলগাঁওয়ের ভূঁইয়াপাড়ার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর আবার তাঁকে শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। ওই জিজ্ঞাসাবাদের সময় পদত্যাগপত্রে সই করেন তিনি। এরপরে প্রায় দেড় মাস সেই পদত্যাগপত্র পুলিশ সদর দপ্তরে থাকার পর কিছুদিন আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।