নিউজ ডেস্ক | ৩০ মার্চ, ২০১৫
ব্লগার ওয়াশিকুর বাবুর হত্যাকাণ্ডে আটক দুই জঙ্গি জিকরুল্লাহ ও আরিফুল ইসলাম মাদ্রাসা ছাত্র। তাদের একজন ওয়াশিকুরকে হত্যা করতে চট্টগ্রাম থেকে এসেছিল এবং অন্যজন ছিল ঢাকায়ই।
হত্যাকারি জিকরুল্লাহ চট্টগ্রামের হাটহাজারি মাদ্রাসার ছাত্র এবং হাটহাজারি মাদ্রাসা হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা আহমেদ শফীর, যারা ২০১৩ সালে তাদের ভাষায় নাস্তিকদের বিরুদ্ধে ঢাকায় লংমার্চ করেছিলেন। অপর হত্যাকারি আরিফুল ইসলাম মিরপুরের দারুল উলুম মাদ্রাসার ছাত্র- এই মাদ্রাসাও হেফাজতে ইসলামের আখড়া বলে চিহ্নিত।
আশিকুর বাবুর হত্যাকাণ্ডের পেছনে মুক্তচিন্তার লেখকদের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামের সার্বিক রণকৌশল বলে অনেকেই মনে করছেন।
এই হত্যার পরিকল্পনা হয়েছিল চট্টগ্রামের হাটহাজারি মাদ্রাসায় এবং খুনিরা সর্বশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করে রোববার সন্ধায় হাতিরঝিলে বসে। এবং পরিকল্পনা অনুযায়ি সোমবার সকালে ওয়াশিকুর বাবু তার অফিসে যাওয়ার পথে বেগুনবাড়ি দীপিকা মোড়ে আক্রমণের শিকার হন।
হত্যাকারিরা ওয়াশিকুরকে ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে এবং তার মুখ কুপিয়ে থেতলে দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় দুই খুনিকে গ্রেফতার করে, উদ্ধার করা হয় তিন চাপাতি।
জনতার ধাওয়া খেয়ে হত্যাকারিরা পালিয়ে যাওয়ার সময়ে দুইজনকে আটক করা হলেও উদ্ধারকৃত তিন চাপাতির মাধ্যমে প্রমাণ হয় এই হত্যাকাণ্ডে দুইয়ের বেশি খুনি অংশ নিয়েছিল।
ব্লগার, লেখক, গবেষক ড. অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের পর যারা প্রতিবাদী অবস্থান নিয়েছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ব্লগার ওয়াশিকুর বাবু। আসল নাম ওয়াশিকুর রহমান বাবু। পিতার নাম টিপু সুলতান। গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে। তারা তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার বেগুনবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। ওয়াশিকুর ব্লগিং করতেন, পেশাগত জীবনে মতিঝিলের ফারইস্ট এভিয়েশন নামের একটি ট্র্যাভেল এজেন্সিতে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছিলেন।